এই চেহারা নিয়ে নায়িকা হতে পারবে না: মেয়েকে বললেন নীনা

ভারতীয় সমান্তরাল ধারার সিনেমায় ১৯৮০ এর দশকে শাবানা আজমি, স্মিতা পাতিল ও দীপ্তি নাভালদের পাশাপাশি জনপ্রিয় ছিলেন নীনা গুপ্তা। অভিনয় করেছেন টেলিভিশনেও। সম্প্রতি ‘বাধাই হো’ সিনেমার মাধ্যমে ফের আলোচনায় আছেন তিনি।

ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বেশ আলোচিত নীনা। প্রেমিক ক্রিকেটার ভিভ রিচার্ডসকে বিয়ে না করেই জন্ম দেন মেয়ে মাসাবার। ‘সিঙ্গল মাদার’ স্ট্যাটাস নিয়ে তিনি বরাবরই খুশি।

কয়েকদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে অভিনয় থেকে ব্যক্তিগত জীবন সবকিছু নিয়েই খোলামেলা কথা বলেছেন নীনা।

মাসাবাকে একা বড় করা নিয়ে বলেন, “প্রচলিত পরিবার বলতে যেটা বোঝায়, সেটা আমি মাসাবাকে দিতে পারিনি। কখনো কখনো এ জন্য নিজেকে অপরাধী মনে হয়। সে সময় আমার কোনো কোনো বন্ধু বলেছিল শিশুর জন্য এটা ঠিক নয়। তবে কে শোনে কার কথা! মানুষ ভালোবাসায় অন্ধ হয়ে যায়। সে সময় আমারও ভীষণ মন খারাপ লাগত, একাকিত্বে ভুগতাম। মনে হতো আরও একটা সন্তান থাকলে হয়তো সুবিধা হতো। একটা শিশুকে এতটাও একা হতে হতো না। তবে পরিস্থিতি সেই রকম ছিল না।”

তবে নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে আফসোস নেই বলে জানান নীনা। বর্তমান প্রজন্মের উদ্দেশ্যে বলেন, “সিঙ্গল মাদার হিসাবে সন্তানকে বড় করা খুবই কঠিন। এ পথে না হাঁটাই ভালো। কারণ এ ধরনের ঘটনায় এ দেশে মেয়েরা সংখ্যালঘু। তাই সংখ্যাগরিষ্ঠদের মধ্যে এভাবে সন্তানকে বড় করা ভীষণ কঠিন। বিশেষ করে শিশুর ক্ষেত্রে জীবনটা খুব কঠোর হয়ে যায়।”

মাসাবার ক্যারিয়ার নিয়ে নীনা বলেন, “মাসাবাও অভিনেত্রী হতে চেয়েছিল। আমি ওকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি, যদি অভিনয় করতে চাও তাহলে তোমাকে বিদেশ চলে যেতে হবে। তোমাকে যেমন দেখতে, তোমার যেমন চেহারা তাতে এ দেশে সেভাবে তুমি কাজ পাবে না। আর এই চেহারায় তুমি খুবই কম চরিত্র পাবে, কখনোই নায়িকা হতে পারবে না। তুমি হয়তো ভালো অভিনেত্রী হতে পারো, কিন্তু কখনোই হেমা মালিনী কিংবা আলিয়া ভাট হতে পারবে না।”

অবশ্য অভিনয় নয়, ফ্যাশান ডিজাইনিংকে পেশা হিসাবে বেছে নিয়েছেন মাসাবা। সোনম কাপুর, রেহা কাপুর, কঙ্গনা রনৌত, শিল্পা শেঠি, আথিয়া শেঠিসহ অনেক তারকাই তার নকশা করা পোশাক গায়ে তুলেছেন।