স্থানীয় ও আঞ্চলিক নদনদী দখল ও দূষণমুক্ত করার দাবিতে গতকাল শুক্রবার ঝিনাইদহ ও পঞ্চগড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠন ‘গ্রিন ভয়েসে’র উদ্যোগে পৃথক এ কর্মসূচির খবর জানিয়েছেন প্রতিনিধিরা
ঝিনাইদহ : ‘যুবরাই লড়বে, সবুজ প্রকৃতি গড়বে’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে ঝিনাইদহের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদনদীগুলো দখল, দূষণমুক্ত ও নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করে পরিবেশবাদী যুব সংগঠন গ্রিন ভয়েস।
এতে সংগঠনটির জেলা শাখার প্রধান সমন্বয়ক সাকিব মোহাম্মদ আল হাসান, আকিবুল ইসলাম, আলামিন খান সোহেল, তানভির রহমান, ইসতিয়াক আহম্মেদসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন, জেলার নদনদীগুলো দখলের কারণে তাদের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলছে। দখলমুক্ত করে খননের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানালেও তারা কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। নদনদীগুলো দখলমুক্ত করে খননের দাবি জানান তারা। এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুনও প্রদর্শিত হয়।
পঞ্চগড় : পঞ্চগড়ের ওপর দিয়ে প্রবাহিত করতোয়া, মহানন্দা, ডাহুক, টাঙ্গন, তালমা, ঘোড়ামারা, মরা তিস্তাসহ সব নদী দখল ও দূষণমুক্ত এবং নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে শহীদ মিনারের সামনে পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়কের পাশে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। পরিবেশবাদী যুব সংগঠন ‘গ্রিন ভয়েস’ পঞ্চগড় জেলা শাখা এই মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে।
ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে গ্রিন ভয়েসের জেলা সমন্বয়ক সানোয়ার হোসেন, অ্যাডভোকেট আহসান হাবিব সরকার, সাজেদুর রহমান সাজু ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শহীদুল ইসলাম শহীদ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা প্রাণ প্রকৃতি, কৃষি, জলজ সম্পদ রক্ষায় অবিলম্বে জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ৩৩টি নদীর সীমানা চিহ্নিত করে দখলদারমুক্ত করার দাবি জানান।
নদী দূষণ-দখল বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা নদী সংরক্ষণ কমিটির সদস্য সচিব ও পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান জানান, ‘নদীর সীমানা চিহ্নিত করে দখলমুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। প্রয়োজনীয় মৌজা ম্যাপ ও জনবল সংকটের কারণে নদীর সীমানা চিহ্নিত করার কাজ শুরু করতে দেরি হচ্ছে।’