হাতিরপুল কাঁচাবাজার সংলগ্ন ফুটপাতকে বাজারের অংশ বানিয়ে ফেলেছেন ব্যবসায়ীরা। ফুটপাতের পাশাপাশি মূল রাস্তার কিছু অংশ দখলে নিয়ে সবজি ও মাছের দোকান বসিয়েছেন তারা। বাজারের ভেতরে নিজেদের বরাদ্দকৃত দোকান ফাঁকা রেখে তারা ফুটপাতে দোকান সাজিয়েছেন। নতুন করে ফুটপাত তৈরি করা হলেও তা ব্যবহার করতে পারছেন না পথচারীরা। মাঝে মধ্যে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান চললেও দুদিন পরই ফের তা দখল হয়ে যাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কাঁচাবাজার সংলগ্ন পরীবাগের দিকে যাওয়া রাস্তার ফুটপাতও দখলে নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এতে পথচারীদের হাঁটতে অসুবিধা হয়। ঝুঁকি নিয়ে তারা রাস্তা পার হন। রাস্তাটিতে যানজট লেগেই থাকে।
ফুটপাত দখলমুক্ত করতে না পারার জন্য পুলিশকে দায়ী করলেন স্থানীয় কাউন্সিলর। বারবার উচ্ছেদের চেষ্টা করলেও পুলিশের অসহযোগিতার কারণে অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে না। পুলিশ চাঁদা নিয়ে ব্যবসায়ীদের ফুটপাতে বসাচ্ছে। এর সত্যতা পাওয়া গেছে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেও। তারা জানান, ফুটপাতে দোকানের জন্য তারা পুলিশকে সকাল ও বিকেলে আলাদা করে চাঁদা দেন। এছাড়া মাঝে মধ্যে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতারা চাঁদা তোলেন। ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নামেও অনেকে চাঁদা নেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পুলিশ খায়, কমিশনারের লোকজন খায়। অনেকেই তো কমিশনারের কথা বলে চাঁদা নেয়। আবার শাহবাগ, কলাবাগান থানাও খায়। সকালে পুলিশ ১০০-১৫০ টাকা করে নেয়। বিকেলে আরও বেশি নেয়। কত নেয় বলমু না। বলা নিষেধ।’
তবে মূল বাজারের ব্যবসায়ীরা চাঁদা দেওয়ার ব্যাপারে কিছু বলেননি। ফুটপাতের ওপর দোকান দেওয়ার ব্যাপারে তারা বলেন, ‘ভেতরের দোকানে জায়গা খুব কম। তাই দোকান রেখে তারা ফুটপাতে বসেছেন। পুলিশ মাঝে মধ্যে তাদের ফুটপাত থেকে উঠিয়েও দেয়।’ এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে একজন বলেন, ‘উঠাইব আবার দিব, এভাবেই চলব।’
এলাকাটি ঢাকা দক্ষিণ সিটির ২১নং ওয়ার্ডের আওতায়। ওয়ার্ড কাউন্সিলর এম এ হামিদ খান ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অস্বীকার করেন। সাবেক এক যুবলীগ নেতাসহ তিনজন তার নামে চাঁদা তুলে জানিয়ে দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘আমি ব্যবসায়ীদের বলে দিয়েছি যারা চাঁদা নিতে আসে, তারা যত বড় নেতা হোক, ধরে রেখে আমাকে খবর দেবেন। নয়তো ওসিকে ফোন দেবেন।’
পুলিশের চাঁদা নেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘শুধু ফুটপাত নয়, কিছু জায়গায় মাদক বেচাকেনা হয়। আমি প্রতিদিন পুলিশ পাঠাই। তারা আসে আবার চলে যায়। মাঝে মধ্যে দুয়েকজনকে ধরে থানায় নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর আবার ছেড়েও দেয়।’
ব্যবসায়ী ও কাউন্সিলরের অভিযোগের ব্যাপারে শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসানকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার দায়িত্ব কার? সিটি করপোরেশনের কাজ এটা। ফুটপাত যতবার উচ্ছেদ করেছি, আমরাই তো করেছি।’ এ কথা বলে তিনি ফোন কেটে দেন।