সরকারের জনপ্রিয়তা বেড়েছে- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন দাবির জবাবে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রীর এহেন বক্তব্যে গোরস্থানের লাশও খিলখিল করে হেসে উঠবে।”
শনিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।
রিজভী বলেন, “মিডনাইট সরকারের লোকদের এখন লজ্জা শরম নেই। তাদের নির্লজ্জ মিথ্যাচার করতে লজ্জাবোধ হয় না।”
তিনি বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কিত ও বিতর্কিত নির্বাচন। যে নির্বাচনে ভোটারদের দরকার পড়েনি, দরকার পড়েছে চতুষ্পদী প্রাণীর।
বিএনপির এই মুখপাত্র দাবি করেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন মিলে আগের রাতে ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করে রাখে। ভোটের দিন ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে দেওয়া হয়নি।”
“আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ দূরে রাখা হয়েছিল সাধারণ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসতে বাধা দেওয়ার জন্য। সে নির্বাচনের দৃশ্য দেশি ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় কীভাবে ফলাও করে প্রচারিত হয়েছে তা নিশ্চয়ই ক্ষমতাসীনদের জানা থাকলেও এখন সেটি চেপে গিয়ে মুখস্থ মিথ্যা কথা বলছেন”
রিজভী বলেন, জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ইইউসহ তামাম গণতান্ত্রিক বিশ্বে সে নির্বাচন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। সে মিডনাইট ভোটের নির্বাচনের প্রশংসা করা হাস্যকর ছাড়া আর কিছুই নয়।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা বাড়লে একাদশ সংসদ নির্বাচনে জনগণকে ভোটকেন্দ্রে যেতে দেওয়া হয়নি কেন? কেন বিএনপির লাখ লাখ নেতাকর্মীর নামে গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছিল? কেন ধানের শীষের প্রার্থীসহ হাজার হাজার নেতাকর্মীকে আটকে রাখা হয়েছিল? আগের রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন মিলে ব্যালট বাক্স ভর্তি করল কেন?”
দলের ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দে আদালতের নির্দেশ প্রসঙ্গে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, “তারেক রহমানের কোনো অবৈধ অর্থ নেই। সেখানে তার যা অর্থ আছে তা ইনল্যান্ড রেভিন্যুতে ট্যাক্সপেইড অর্থ। সেদেশে আইনের শাসন রয়েছে, সুতরাং সেখানে আনডিসক্লোজড মানি ট্রানজেকশন হওয়ার সুযোগ নেই।”
তিনি দাবি করেন, “১২ বছর ধরে তন্ন তন্ন করে খুঁজে তারেক রহমানের অবৈধ সম্পদের কোনো সন্ধান পায়নি। এখন দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদককে দিয়ে আরেকটি কুৎসা রটনার নতুন অধ্যায় শুরু করল। যুক্তরাজ্যের বিদ্যমান আইনে আইনসিদ্ধ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের আদালতের হস্তক্ষেপের কোনো এখতিয়ার নেই। সুতরাং বাংলাদেশে যে অপরাজনীতি চলছে, এটা তারই প্রতিফলন।”