লোকগানের প্রবাদপ্রতিম শিল্পী অমর পাল আর নেই

বাংলা লোকগানের প্রবাদপ্রতিম শিল্পী অমর পাল আর নেই। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শনিবার বিকেলে কলকাতার এক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর। তাঁর স্ত্রী পুতুল রাণী পাল তাঁর আগেই মারা যান। তিনি পাঁচ ছেলে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

অমর পালের জন্ম ১৯২২-এর ১৯ মে, বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। মা দুর্গাসুন্দরী দেবীর কাছে লোকসংগীতে হাতেখড়ি হয় তাঁর।

আট বছর উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের তালিম নেন ওস্তাদ আলাউদ্দিন খানের ছোট ভাই আয়েত আলি খানের কাছে। ১৯৫১-এ আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্রের লোকসঙ্গীত শিল্পী হিসেবে গান পরিবেশন করেন। দেবকী বসু, সত্যজিত্ রায়ের পরিচালিত ছবিতে গান গেয়েছিলেন তিনি। সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি সহ দেশে, বিদেশে একাধিক সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন অমর।

 ‘হীরক রাজার দেশে’ ছবিতে অমরের গাওয়া ‘কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়’ জনপ্রিয় হয়েছিল। এ ছাড়া তাঁর প্রভাতী সঙ্গীত, ভাটিয়ালি গানও শ্রোতারা মনে রাখবেন।

তাঁর গাওয়া অসংখ্য গানের রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্রে গানেও কণ্ঠ দেন। তিনি দেবকী কুমার বসু, সত্যজিৎ রায়, ঋতুপর্ণ ঘোষের ছবিতে গান গেয়ে দারুণ প্রশংসিত হন। সত্যজিৎ রায় পরিচালিত ‘হীরক রাজার দেশ’ ছবিতে তাঁর গাওয়া ‘আমি কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়’ এখনো জনপ্রিয়।

অমর পালের গাওয়া খুব জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে ‘প্রভাত সময়ে’, ‘জাগো হে এ নগরবাসী’, ‘রাই জাগো’, ‘প্রভাতে গোবিন্দ নাম’, ‘রাই জাগো গো’, ‘ভারতী গৌরাঙ্গ লইয়া’, ‘হরি দিন তো গেল’, ‘মন রাধে রাধে’, ‘বৃন্দাবন বিলাসিনী’, ‘জাগিয়া লহো কৃষ্ণ নাম’, ‘আমার গৌর কেনে’, ‘আমি কোথায় গেলে’ ইত্যাদি।