খালেদার প্যারোলের বিষয়ে সাংবাদিকদের আগ্রহ বেশি: হানিফ

খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির ব্যাপারে বিএনপিরে নেতাদের চাইতে সাংবাদিকরা বেশি আগ্রহী বলে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, তাদের কাছ থেকে বারবার এই প্রশ্ন আসছে। বিএনপি নেতৃবৃন্দ কখনো বলছেন না, তারা তার মুক্তির জন্য আবেদন করেছেন, আমাদের কাছেও এ রকম কোন তথ্য নেই।’

শনিবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সম্পাদকমণ্ডলীর সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

খালেদা জিয়া রাজনৈতিক কারণে কারাগারে নেই উল্লেখ করে হানিফ বলেন, আপনারা জানেন, ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মামলা করেছিল দুর্নীতির অভিযোগে। সেই সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায়, আদালত তাকে দণ্ড দিয়েছেন। তিনি দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদি হিসেবে কারাগারে আছেন।

হানিফ বলেন, ‘দেশের আইন অনুযায়ী একজন দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদির মুক্তির বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পূর্ণ করতে হবে। এর বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দ্বিতীয় আরেক পন্থা আছে, সেটা হলো কোনো দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি তার অপরাধ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে, সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করলে তিনি মুক্তি পেতে পারেন। এই দুইটা পদ্ধতি ছাড়া আর কোনো পদ্ধতি আছে বলে আমাদের জানা নেই।

প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি কারাবিধি অনুযায়ী দাবি করে হানিফ বলেন, বিএনপির বা খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে এখন অবধি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে কি না, আমাদের জানা নেই। তবে সাংবাদিকদের কথার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, যদি বেগম জিয়ার পক্ষ থেকে অথবা বিএনপির পক্ষ থেকে তার প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করা হয়, সে ক্ষেত্রে ওনারা বিবেচনা করতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে এই জাতীয় সংসদে শপথ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত যারা নিয়েছেন, এটা একটা খুব বাজে সিদ্ধান্ত হিসাবে মানুষের কাছে থাকবে।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আফজাল হোসেন, উপ-দফতর সম্পাদক ব্যরিষ্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য এসএম কামাল হোসেন, ইকবাল হোসেন অপু প্রমুখ।