পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে পোশাকশিল্পে টেকসই উৎপাদনের তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা। এ ছাড়া পোশাক পণ্যের টেকসই ব্যবহারের প্রতিও গুরুত্বারোপ করেছেন তারা। গতকাল শনিবার রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে পোশাক খাত নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ফ্যাশন রেভল্যুশন ও বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) অ্যাকশন এইডের উদ্যোগে ‘ভয়েসেস অ্যান্ড সল্যুশন : ফ্যাশন শিল্পে টেকসই উৎপাদন এবং ব্যবহারের মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি অর্জন’ শীর্ষক সেমিনারে তারা এ তাগিদ দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা যখন গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করছিলাম, তখন আমাদের এ সম্পর্কে সচেতনতার শিক্ষা কেউ দেয়নি। আমি যখন নিজেই নব্বইয়ের দিকে কোনাবাড়িতে ডাইংয়ের ব্যবসা শুরু করি, কেউ আমাকে বলেনি এর পানি কোন দিক দিয়ে প্রবাহিত করব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা জানেন, মিরপুর কালশী খালের কথা। আমরা গত ১০ দিনে ৬৫০ টন ময়লা সরিয়েছি। সেখানকার অবস্থা ভয়াবহ। আমরা এর মধ্যে ডুবুরি নামিয়েছি ব্রিজের নিচের ময়লা পরিষ্কারের জন্য। তারা বলছে, তাদের আরও ছয়জন ডুবুরি দিতে হবে।’
বক্তারা বলেন, দেশি পোশাক শিল্পের প্রায় তিন ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের বাজার রয়েছে। তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। তবে এই পোশাক খাতই পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম দূষণকারী। এ খাত বিশ্বের ২০ শতাংশ বর্জ্য পানি ও ১০ শতাংশ কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ করে। সেমিনারে বক্তব্য দেন জায়ান্ট গ্রুপের এমডি ফারুক হাসান, নিউ এজ গ্রুপের এমডি আসিফ ইব্রাহিম, অনন্ত গ্রুপের এমডি ও বিজিএমইএ পরিচালক শরীফ জহির এবং কিউটেক্স সল্যুশনের এমডি তহুরা খানম। অ্যাকশন এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবিরের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফ্যাশন রেভল্যুশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর নওশীন খায়ের।