সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ বেঁচে আছেন: পরিবার

প্রখ্যাত সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লেও তিনি বেঁচে আছেন বলে জানিয়েছেন তার মেয়ে নুসরাত হুমায়রা। তিনি থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাহফুজউল্লাহর সঙ্গে অবস্থান করছেন।

মাহফুজ উল্লাহর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নুসরাত হুমায়রা গণমাধ্যমকে জানান, ‘বাবা বেঁচে আছেন। বাবার পাশেই আমি বসে আছি’।

এদিকে, মাহফুজ উল্লাহর মৃত্যুর খবর জানিয়ে শোক বিবৃতি পাঠানোর জন্য ভুল স্বীকার করে দূঃখ প্রকাশ করেছে বিএনপি।

থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাহফুজ উল্লাহর সঙ্গে অবস্থানরত তার মেয়ে নুসরাত হুমায়রা জানান, চিকিৎসকরা মাহফুজউল্লাহকে বাঁচাতে সর্বোত চেষ্টা করছেন।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদের উপর ভিত্তি করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি শোকবার্তা পাঠানো হয়। কিন্তু পরবর্তীতে জানা যায় যে, জনাব মাহফুজউল্লাহ মৃত্যুবরণ করেননি, তবে তার অবস্থা সঙ্কটাপন্ন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য বিএনপি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে’।

বিবৃতিতে মাহফুজউল্লাহর দ্রুত সুস্থতা ও দীর্ঘায়ুর জন্য দোয়াও চাওয়া হয়।

গত ২ এপ্রিল সকালে ধানমন্ডির গ্রীন রোডে মাহফুজউল্লাহ তার নিজ বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। গত ১১ এপ্রিল গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার এ্যাম্বুলেন্সে ব্যাংককে নেয়া হয়। অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী বড় মেয়ে ডা. মেঘলা ও জামাতা মাহফুজ উল্লাহর সঙ্গে যান। পরে শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় মাহফুজউল্লাহকে উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

প্রখ্যাত এই সাংবাদিক হৃদরোগ, কিডনি ও উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন।

দেশের খ্যাতিমান এই সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ ১৯৫০ সালে নোয়াখালী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যা ও সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী হিসেবে উনসত্তরের ১১ দফা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্র রাজনীতির কারণে আইয়ুব খানের সামরিক শাসনামলে তাকে ঢাকা কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

ছাত্রাবস্থাতেই মাহফুজ উল্লাহ সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। বাংলাদেশের একসময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় সাপ্তাহিক বিচিত্রার জন্মলগ্ন থেকেই ১৯৭২ সালে তিনি এ পত্রিকার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মাঝে চীন গণপ্রজাতন্ত্রে বিশেষজ্ঞ হিসেবে, কোলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপদূতাবাসে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ এবং সাংবাদিকতা বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন।

বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের নেতৃস্থানীয় বাংলা ও ইংরেজি দৈনিকে সম্মানের সাথে কাজ করেছেন তিনি। রেডিও ও টেলিভিশনে অনুষ্ঠান উপস্থাপনাও করেছেন।

মাহফুজ উল্লাহ আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একজন সক্রিয় পরিবেশবিদ এবং বাংলাদেশে তিনিই প্রথম পরিবেশ সাংবাদিকতা শুরু করেন। বিভিন্ন বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় লেখা তার বইয়ের সংখ্যা ৫০-এর অধিক এবং এসবের অধিকাংশই পৃথিবীর বিভিন্ন নেতৃত্বস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে সংগৃহীত আছে।

মাহফুজ উল্লাহর বইগুলোর মধ্যে President Zia of Bangladesh : A political Biography, যাদুর লাউ, যে কথা বলতে চাই, অভ্যুত্থানের উনসত্তর, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন : গৌরবের দিনলিপি (১৯৫২-৭১), ULFA & THE INSURGENCY IN ASSAM ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।