নাম তার মো. আ. খালেক। রিকশা চালিয়ে টিকে আছেন জীবন সংসারে। তবে তার গোপন পরিচয় তিনি একজন কবি। লিখেছেন ৪২টি কবিতা। গজলও লিখেছেন।
তার ইচ্ছা কবিতা ও গজলগুলো নিয়ে বই প্রকাশ করবেন। সে ইচ্ছা থেকে রাজধানীর বাংলাবাজারেও গিয়েছিলেন একবার। প্রকাশ তাকে বলেছেন ৪০ হাজার টাকা লাগবে।
একজন রিকশাচালকের পক্ষে এই টাকা জোগাড় সম্ভব না। কিন্তু কবিতা লেখা বা বই প্রকাশের ইচ্ছা তার দমেনি।
তার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানান লুলু আম্মানসূরা। তিনি রাজধানীর ফরিদাবাদ এলাকায় থাকেন।
আ. খালেক তাকে জানান, 'আমি বিয়াল্লিশটা কবিতা লিখছি, চারটা গজল লিখছি, নিজেই সুর দিছি'।
'বাংলাবাজার এক প্রকাশকের কাছে গেছিলাম। হেয় চল্লিশ হাজার ট্যাকা চাইছে। আমার এত ট্যাকা নাই'।
লুলু আম্মানসূরা তার কাছে কোনো কবিতা আছে কিনা জানতে চাইলে জীর্ন মানিব্যাগের ভেতর থেকে টিস্যুপেপারের প্লাস্টিকের ব্যাগে ভাজ করা মলিন দুটি কাগজ বের করে দেন।
এর একটি কবিতা লুলু আম্মানসূরা ফেসবুকে পোস্ট করেন।
'মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের জন্য'
'বিসমিল্লাহ বলিয়া আমি কলম নিলাম হাতে,
লিখিতে বসিলাম আমি নিশি প্রভাতে।
প্রথমে আল্লাহ নবী মনে ভাবি করিয়া স্মরণ,
লিখিতে বসিলাম আমি মায়ানমারের কিছু বিবরণ।
লাখে লাখে মানুষ মারে, আর মারে সন্তান,
মায়ানমারে সরকার নাই ভাই, আছে এক শয়তান।
শয়তানটাকে বশ করিতে একজোট হই ভাই হিন্দু মুসলমান,
মায়ানমারে সরকার নাই ভাই, আছে এক শয়তান।
চোখের সামনে মাকে মারে, বাবাকে মারে আর মারে সন্তান,
মায়ানমারে সরকার নাই ভাই, আছে এক শয়তান।
বিশ্বজুড়ে বসত করে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ আর খ্রিস্টান।
আছে কি ভাই কোন শাস্ত্রে মানুষ মারার বিধান?
মায়ানমারে সরকার নাইরে আছে এক শয়তান।
ঘর পুড়িল, দুয়ার পুড়িল, পুড়িল সাধের বাড়ি,
রোহিঙ্গা সাজিয়া মানুষ দিল এই বাংলায় পাড়ি।
তাই দেখিয়া বাংলার সরকার চিন্তা করে খাবার দরকার,
তাইতো এখন বাংলার নেত্রি, ঘুইরা বেড়ায় দিনরাত্রি,
করে শুধু সাহায্যের সন্ধান, দিতে চাইছেন রোহিঙ্গাদের বেঁচে থাকার স্থান।
টেকনাফের বাতাস হইছে ভারী রোহিঙ্গাদের কান্দনে,
কী লাভ হবে বলেন না ভাই করে বাংলায় মানব বন্ধনে?
বাংলাদেশের মোড়ে মোড়ে দানবক্স দিছে ভাই,
সেই বক্সে কিছু টাকা দিবেন যে সবাই।
সেই টাকা বিলি হবে...
ত্রাণ খাইয়া রোহিঙ্গারা বাচাইছে পরাণ।
ও ভাই বাচাইছে পরাণ।
মায়ানমারে সরকার নাইরে আছে এক শয়তান।
বিশ্বের নেতাদের সে করছে অপমান।
মায়ানমারে সরকার নাইরে আছে এক শয়তান।'