নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে গত ১৫ মার্চের সন্ত্রাসী হামলার প্রতিশোধ নিতেই শ্রীলঙ্কায় একটি ‘জঙ্গি’ সংগঠন সিরিজ বোমা হামলা চালিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার প্রাথমিক তদন্ত থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এমন দাবি করেন শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী রুয়ান বিজয়বর্ধন।
মঙ্গলবার পার্লামেন্টের অধিবেশনে প্রতিমন্ত্রী এমন দাবি করলেও তিনি এর পক্ষে কোনো বিস্তারিত ও প্রমাণ হাজির করেননি। পার্লামেন্টের বিশেষ অধিবেশনে বিজয়বর্ধন বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্ত থেকে জানা গেছে, ‘ক্রাইস্টচার্চে মুসলিমদের ওপর হামলার বদলা নিতেই শ্রীলঙ্কায় হামলা চালানো হয়েছে।’ ন্যাশনাল তাওহিদ জামায়াত (এনটিজে) নামক একটি উগ্রপন্থি ইসলামি সংগঠন ওই সিরিজ বোমা হামলা চালিয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পারার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার হামলায় ঘটনায় দুটি স্থানীয় ইসলামি সংগঠন দায়ী। জেএমআইয়ের সঙ্গে মিলে ন্যাশনাল তাওহিদ জামায়াত এ হামলা চালিয়েছে।’ জেএমআই বলতে বিজয়বর্ধন স্থানীয় আরেকটি ইসলামি গোষ্ঠী জমিয়াতুল মিল্লাতু ইব্রাহিমকে বুঝিয়েছেন।
তবে মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের পক্ষ থেকে শ্রীলঙ্কায় হামলার দায় স্বীকার করা হয়েছে। নিজেদের কথিত বার্তা সংস্থা আমাক-এ দায় স্বীকার করে বিবৃতি প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। তবে আইএস তাদের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেনি।
সিরিজ বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২১। মঙ্গলবার হামলায় নিহতদের অনেককে গণকবর দেওয়া হয়েছে। এ সময় নিহতদের স্বজনদের কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। সারা দেশ জুড়ে পালিত জাতীয় শোকের মাঝেই এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ ২৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারান্টের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয় নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদ। শহরের হাগলি পার্কমুখী সড়ক ডিনস এভিনিউয়ের আল নুর মসজিদসহ লিনউডের আরেকটি মসজিদে তার তাণ্ডবের বলি হয় অর্ধশত মানুষ। ওই ঘটনার এক মাস পর গত ২১ এপ্রিল (রবিবার) খ্রিস্টধর্মাবলম্বীদের ইস্টার সানডে উদ্যাপনকালে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো ও তার আশপাশের তিনটি গির্জা, তিনটি হোটেল ও আরও দুটি এলাকায় আট দফা বিস্ফোরণ চালানো হয়।