চাইলেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে না তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিকরা। বাধা হয়ে দাঁড়ায় নিজেদের কেউই। তেমনি শত ইচ্ছা থাকলেও বিপাশা ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে পার্লারে কাজ করতে পারছেন না। দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদকের কাছে এই অভিযোগ করেন তৃতীয় লিঙ্গের বিপাশা।
শৈশবে অনামিকা নামে বেড়ে উঠলেও সময়ের পালাক্রমে শিশু অনামিকা আজ বিপাশা নামে পরিচিত। রাষ্ট্র তাকে তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি দিলেও সবাই তাকে বিপাশা হিজড়া বলেই ডাকে। বর্তমানে বিপাশা ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বের হয়ে এসে পার্লারে কাজ করতে চান। তবে তার এই চিন্তায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তৃতীয় লিঙ্গের শিউলি। বিপাশা আরও অনেকের মতো প্রতিদিন রাস্তায় চাঁদা তুলেই তার জীবন যাপন করছেন। ছোটবেলায় চট্টগ্রামের এক স্কুলে ভর্তি হলেও সহপাঠীরা হিজড়া বলে ডাকত শিশু অনামিকাকে। অনামিকা এই ডাক সহ্য করতে না পেরে বাসায় এসে কান্না জুড়ে দিতে। শিক্ষকদের বিচার দিয়েও তেমন সমাধান পায়নি পরিবার। একটা সময় পরিবারের কাছেও বোঝা হয়ে যায়।
নিজের বোন থেকে শুরু করে বাবা কেউ তাকে সহ্য করতে পারতেন না। মা ছাড়া পরিবারের সবার কাছ থেকে কটু কথা শুনে পরিবার ছেড়ে দিয়েছিলেন অনামিকা। পরে চট্টগ্রাম শহরেই এক নাচের স্কুলে নাচ শিখেছেন তিনি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচ করে সেই নাচের স্কুলেই রাত্রি যাপন করতেন। ভাগ্য তার সহায় হয়নি। নাচের শিক্ষকের মৃত্যু হওয়ায় চলে এলেন রাজধানী শহর ঢাকার কমলাপুরে। এখানেই প্রথম পরিচয় হয় তৃতীয় লিঙ্গের হাবিবার সঙ্গে, পরে হাবিবাই হন তার গুরু মা। এই প্রথম তৃতীয় লিঙ্গের কোনো দলের সঙ্গে সঙ্গে বসবাস শুরু করেন বিপাশা।
বিপাশা বলেন, মাত্র দুই মাসে তিনি পটু হয়ে যান টাকা তুলতে। এরপর প্রতিদিন রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে টাকা তুলতেন। যে পরিমাণ টাকা আয় করতে পারতেন অর্ধেক টাকা দিয়ে দিতেন গুরুমাকে। সরকারি কোনো সংগঠনের মাধ্যমে পার্লারের কাজ রপ্ত করে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেন তিনি। ভিক্ষাবৃত্তি থেকে সরে এসে নিজস্ব এক পার্লার করতে চানÑ এই কথা বলেন নিজস্ব দলকে। গুরুমা হাবিবা বয়সের কারণে তার দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন শিউলিকে। শিউলি তাকে বলেন, ‘তুই যদি চলে যাস তাহলে কালেকশন করবে কে?’ এই প্রশ্নের জবাবে বিপাশা বলেন, তার আর টাকা তুলতে ভালো লাগে না।
শিউলি ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে বিপাশার স্বর্ণের চেইন ও আংটি চান। বিপাশা তাকে কার নিজস্ব চেইন, আংটি দেন। পরে বিপাশা অভিযোগ করেন, তার জিনিস ফেরত চাইলে শিউলি দিতে অস্বীকার করে। শিউলি বলেন, ‘তুই তো চলে যাবি, যা তোর এই জিনিস আমি দিমু না।’ এরপর তেজগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন বিপাশা। গত ১৩ এপ্রিল বিপাশা সেই দল ত্যাগ করে নতুন জায়গায় বসবাস শুরু করেন। তবে এখনো বিপাশা চাঁদা তোলেন। তবে খুব শিগগিরই তিনি ভিক্ষাবৃত্তি থেকে সরে আসতে চায়। পার্লারে চাকরি খুঁজছেন তিনি। টাকা তুলে নয় সাধারণ মানুষের মতন কাজ করে বাঁচতে চান তৃতীয় লিঙ্গের বিপাশা।