নিজেদের শুধরে নিতে চান মৌসুমীরা

ভূরি ভূরি গোলের সুযোগ নষ্ট হওয়ায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ মহিলা দলের স্ট্রাইকারদের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ অনূর্ধ্ব-১৯ আন্তর্জাতিক আসরের প্রথম ম্যাচে প্রাধান্য বিস্তার করে খেলেও স্বাগতিকরা সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারিয়েছিল মাত্র ২-০ গোলের ব্যবধানে। সারাক্ষণ আমিরাতের রক্ষণে চেষ্টা করেও এর বেশি গোল করতে পারেননি সিরাত জাহান স্বপ্না, মিসরাত জাহান মৌসুমীরা। এ নিয়ে খারাপ লাগাটা আছে মেয়েদের মধ্যেও। তবে সবচেয়ে বেশি আছে নিজেদের শুধরে নেওয়ার অঙ্গীকার। গ্রুপের শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ কিরগিজস্তান। আজ তারা মুখোমুখি হবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের। এই ম্যাচে কিরগিজস্তান জিতলে বাংলাদেশ এক ম্যাচ হাতে রেখেই সেমিফাইনালে উঠে যাবে। সে ক্ষেত্রে ২৬ এপ্রিল বাংলাদেশ আর কিরগিজস্তানের মুখোমুখি লড়াইটা পরিণত হবে গ্রুপ নির্ধারণী ম্যাচে। আর সেই ম্যাচেই নিজেদের আরও তুখোড় রূপে প্রকাশ করতে চান মৌসুমী, স্বপ্নারা।

দুর্বল প্রতিপক্ষ পেয়েও গোলোৎসব হয়নি। চেষ্টাগুলো আমিরাত গোলমুখে বারবার হোঁচট খেয়েছে। ওই ম্যাচের পরিসংখ্যানে চোখ রাখলেই বোঝা যাবে কতটা আগ্রাসী ভূমিকায় ছিল বাংলাদেশ, আর কত কত সুযোগ তারা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। পুরো ম্যাচে বাংলাদেশ কর্নার আদায় করে নিয়েছে ১৬টি। আর লক্ষ্যে শট ছিল ২২টি। কিন্তু দুটি বাদে এর কোনোটাই গোল হওয়ার মতো ছিল না। কখনো কখনো বাংলাদেশের স্ট্রাইকারদের খানিকটা স্বার্থপরও মনে হচ্ছিল। নিজের নামের পাশে বেশি গোল লিখে নেওয়ার একটা প্রতিযোগিতাই যেন করছিলেন তারা। এই অভিযোগ অবশ্য মাথা পেতে নিচ্ছেন না স্ট্রাইকাররা। তাদের দাবি, নিজের জন্য নয়, বরং দলের জন্য খেলার প্রতিজ্ঞা করেই তারা মাঠে নামেন।

আমিরাতের ম্যাচে সিরাত জাহান স্বপ্নার গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। এরপর দ্বিতীয় গোলটি করেন অধিনায়ক মৌসুমী। গতকাল এ দুজনই কথা বলেছেন দুপুরের রিকভারি সেশন শেষে। স্বপ্না বলেছেন, ‘আমরা সেলফিশ গেম খেলেছি, এটা ঠিক না। আমরা চেষ্টা করেছি, অনেক সুযোগ তৈরি করেছি। কিন্তু প্রত্যাশামতো গোল করতে পারিনি। এ নিয়ে আমরা সামনের দুদিন কাজ করব যাতে সামনের ম্যাচে গোল মিস কম হয়। যা সুযোগ পাই সেটা যাতে কাজে লাগাতে পারি।’

আসলে আলোচনাটা বেশি হচ্ছে কারণ গেল সেপ্টেম্বরেই আমিরাতকে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপ বাছাই পর্বে বাংলাদেশের মেয়েরা হারিয়েছিল ৭-০ গোলের ব্যবধানে। গোল করতে না পারার ব্যর্থতা স্বীকার করে স্বপ্না বলেন, ‘গত ম্যাচে আমার চোখে দুর্বলতা হলো গোল মিস করা। আমি যেহেতু স্ট্রাইকার গোল করার দায়িত্বটা আমারই বেশি। পরের ম্যাচে চাইব সেই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে। হ্যাটট্রিকের সুযোগ বা গোল মিস করার জন্য অবশ্যই খারাপ লাগছে। তবে যে ম্যাচ চলে গেছে সেটা ভেবে লাভ নেই। সামনের ম্যাচের দিকে আমাদের সব ফোকাস থাকবে।’

দ্বিতীয় ম্যাচের আগে টিম ম্যানেজমেন্ট সময় পাচ্ছে দুদিন। এই সময়টায় কম ভুল করার মন্ত্রটা মেয়েদের মনে কতটা গেঁথে দিতে পারেন তারা, সেটাই দেখার বিষয়।