প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া পুরস্কারের চেক গায়েব করে দিলেন প্রধান শিক্ষক

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কোমরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবদুল মোমিন (১১) ক্রীড়ানৈপুণ্যে অসাধারণ দক্ষতার

স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পায় পুরস্কার। গত ১৩ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে নিজে তার হাতে তুলে দেন একটি চেক, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট। এই পুরস্কারের মধ্য দিয়ে শিশু মোমিন গোটা সাতক্ষীরার জন্য বয়ে এনেছে সুনাম। জাতীয় পর্যায়ে উজ্জ্বল করেছে সাতক্ষীরার মুখ।

কিন্তু মোমিনের চরম দুর্ভাগ্য যে তার পুরস্কারের সব টাকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মিলে গায়েব করে দিয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, মোমিনের জেলা পর্যায়ে পাওয়া ৫ হাজার এবং বিভাগীয় পর্যায়ে পাওয়া পুরস্কারের আরও ১০ হাজার টাকা প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম লোপাট করেছেন। এসব অভিযোগ মোমিন ও তার বাবা আনছার আলীর।

পুরস্কারের টাকা আত্মসাতের বিষয়টি লিখিতভাবে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসককে গত মঙ্গলবার জানিয়েছেন আনছার আলী। লিখিত ওই অভিযোগে বলা হয়, আন্তঃপ্রাথমিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা-২০১৮-এর ১০০ মিটার দৌড়ে থানা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় প্রথম স্থান এবং জাতীয় পর্যায়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করে মোমিন। প্রধানমন্ত্রী তার হাতে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক এবং সার্টিফিকেট ও একটি চেক তুলে দেন। পরে প্রধান শিক্ষক শহিদুল মোমিনকে দিয়ে জোর করে ওই চেকের পেছনে দুটি স্বাক্ষর করিয়ে চেকটি তার কাছ থেকে নিয়ে নেন। এর আগে একইভাবে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে পুরস্কার পাওয়া আরও ১৫ হাজার টাকার চেক নিয়ে নেন তিনি।

আনছার আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চেক নেওয়ার সময় হেড স্যার শহিদুল আমার ছেলেকে বলেÑ স্কুলে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব টাকা ও সার্টিফিকেট তোমার হাতে তুলে দেওয়া হবে। কিন্তু আজও তা দেওয়া হয়নি। স্কুলের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মুনছুর আলী আমার ছেলের এসব টাকা ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নিয়েছে।’

চেক লোপাটের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মোমিন জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে খেলতে গিয়েছে মূলত আমার খরচে। তাকে আমি পকেটের টাকা খরচ করে সব জায়গায় নিয়ে গিয়েছি। কিন্তু ওই খরচ কেউ আমাকে দেয়নি। সেই টাকাটা চাওয়াতেই এখন আমার বিরুদ্ধে এসব উল্টাপাল্টা অভিযোগ রটানো হচ্ছে। সংবর্ধনা দিয়েই যথাসময়ে মোমিনের চেক মোমিনের হাতে তুলে দেওয়া হবে।’

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল বলেন, ‘এ ব্যাপারে একটি অভিযোগ পেয়েছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অভিযোগটি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। সত্যতা পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’