অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ বিক্রি বন্ধে সরকারকে পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। নিবন্ধিত চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ওষুধের দোকানে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধের উদ্যোগ নিতে আদেশ প্রাপ্তির দুই দিনের মধ্যে প্রতিটি জেলার সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসকের উদ্দেশ্যে পরিপত্র জারি করতে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি যথাযথ তত্ত্বাবধান ও নিবন্ধিত চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত।
ওষুধের দোকানে অবাধে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি ও তা ব্যবহার বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জনপ্রশাসন সচিবসহ দেশের সকল জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে আদেশে।
গত ২২ এপ্রিল ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) ৮০ ভাগ মৃত্যুর জন্য অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী সুপারবাগ দায়ী। এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের আইসিইউতে ১০ মৃত্যুর মধ্যে ৮টি মৃত্যুর জন্য দায়ী সুপারবাগ। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের পরামর্শ যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয় না। আবার চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজ থেকেই অ্যান্টিবায়োটিক নেওয়া এবং দোকান থেকে অবৈধভাবে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে রোগীরা ব্যবহার করেন। আবার মানুষের ব্যবহৃত ওষুধ বেশি লাভের আশায় পশুর ওজন বাড়াতেও প্রয়োগ করা হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) একজন চিকিৎসককে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রে আরও কড়াকড়ি প্রয়োজন।
টেলিগ্রাফের ওই প্রতিবেদনসহ দেশের বেশ কিছু দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে বুধবার হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সাইয়্যেদুল হক সুমন। আবেদনে তিনি নিবন্ধিত চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনা চান। আদালতে তিনি নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর রহমান।
বৃহস্পতিবার আদেশের পর ব্যারিস্টার সাইয়্যেদুল হক সুমন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজকের এই আদেশের পরে কার্যত ব্যবস্থাপত্র ছাড়া দেশে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি আর হতে পারে না। এখন সিভিল সার্জন ও ডিসিরা যদি কার্যকর ব্যবস্থা নেন, তাহলে পরবর্তী প্রজন্মকে বাঁচানো যাবে।’