জাহিদের বিরুদ্ধে শিগগিরই কঠিন ব্যবস্থা: ফখরুল

দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ায় জাহিদুর রহমান জাহিদকে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইমলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাহিদুর রহমান জাহিদ শপথ নেওয়ার পর সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের একথা জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্ত হচ্ছে, শপথ গ্রহণ না করা। এই সিদ্ধান্তকে অমান্য করে যদি কেউ শপথ গ্রহণ করে থাকেন, তা নিঃসন্দেহে সাংগঠনিক অপরাধ।অবশ্যই এরকম ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুতই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মোট ছয়জন বিজয়ী হন; এছাড়া গণফোরামের দুজনকে নিয়ে তাদের জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮।

৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট ডাকাতির অভিযোগ তুলে পুনর্নির্বাচনের দাবি তোলা বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট ঘোষণা দেয়, তাদের জোট থেকে বিজয়ী কেউ শপথ নেবেন না।

গত ২৯ জানুয়ারি একাদশ সংসদের অধিবেশন শুরু হয়েছে বলে ৯০ দিনের মধ্যে অর্থাৎ ২৯ এপ্রিলের মধ্যে নির্বাচিতরা শপথ না নিলে তাদের আসন শূন্য ঘোষণা করবে ইসি।

ফলে ভোটে জিতলেও আসন হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন ফখরুল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে বিজয়ী আমিনুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে বিজয়ী হারুনুর রশীদ, বগুড়া-৪ আসনে জয়ী মোশাররফ হোসেন ও ব্রাক্ষণবাড়িয়া-২ আসনে বিজয়ী উকিল আবদুস সাত্তার।

গণফোরাম থেকে বিজয়ী দুজন সুলতান মো. মনসুর আহমেদ ও মোকাব্বির খান ইতোমধ্যে শপথ নিয়েছেন। এজন্য গণফোরাম বহিষ্কার করেছে সুলতান মনসুরকে, নোটিস দিয়েছে মোকাব্বিরকে।

“দলের সিদ্ধান্তের বাইরে শপথ নিয়েছি” উল্লেখ করে জাহিদ বলেছেন, তার নির্বাচনী এলাকার মানুষের ‘চাপে’ দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করতে হয়েছে তাকে।

তিনি বলেছেন, সংসদ দাঁড়িয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি তুলবেন তিনি। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে শপথ গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় দিকে জাতীয় সংসদ ভবনে জাহিদুরের শপথগ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দুপুর ১২টা নাগাদ সেই আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে শপথ নেন এই সংসদ সদস্য। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংসদ সচিব জাফর আহমেদ খান।

এর আগে সকালে জাহিদুর রহমান শপথ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে স্পিকারকে চিঠি দেন। সেই অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান।

এবারের নির্বাচনে তিন সাবেক সাংসদকে হারিয়ে জাহিদুর রহমান নির্বাচিত হন। রংপুর বিভাগের মধ্যে জাহিদুরই একমাত্র বিএনপির জয়ী প্রার্থী।

জাহিদুরের শপথ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “জাহিদুরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। নির্বাচিতদের মধ্যে আর কেউ শপথ নেওয়ার চেষ্টা করলে একই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”