রোডসের চোখ সেমিতে

বাংলাদেশের কোচ স্টিভ রোডস খুব বাস্তববাদী। ইংলিশ ঐতিহ্য মেনে আবেগ সামলে যুক্তির ওপর চলেন। তাই সরাসরি বলে ফেলেন না তার দেশে অনুষ্ঠেয় ২০১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশ সেমিফাইনালে খেলতে পারে। একটু ঘুরিয়ে বলেন। যেমন বললেন গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে।

‘আমাদের একটু নির্মমভাবে সৎ হতে হবে। বিশ্বকাপে দারুণ ভালো কিছু দল খেলবে। বাংলাদেশের জন্য ভালো করা কঠিন হবে। কিন্তু এও জানি, ওই দেশগুলো বাংলাদেশকে সমীহ করে। তারা জানে, তাদের একটা দিন অফ গেলে কিংবা ভালো খেললেও বাংলাদেশ তাদের হারানোর মতো দল।’ ব্যাখ্যা দিয়ে রোডস বলছিলেন, ‘এটা আমরা অতীতেও প্রমাণ করেছি। আমি এখানে আসার আগে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে (সেমিফাইনালে) খেলেছি আমরা। কয়েকটা সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েছি। আমরা শীর্ষ দলগুলোকে হারাতে জানি। কিন্তু আমাদের সেরা খেলাটা খেলতে হবে। বিশেষ করে যদি আমরা নকআউট পর্বে খেলতে চাই।’ এরপর নিজে প্রশ্ন করেন এবং জবাবও দিয়ে দেন রোডস, ‘আমাদের কি সেই সামর্থ্য আছে? হ্যাঁ।’

লিগে খেলা খেলোয়াড়রা দীর্ঘ খেলার ধকল কাটাতে বিশ্রামে। সবাইকে একসঙ্গে এখনো ক্যাম্পে পাননি বলে দুশ্চিন্তায় নন বাংলাদেশের প্রধান কোচ, ‘সবাইকে নিয়ে আমরা দুদিন (রবি ও সোমবার) পাব। ৭ মে আয়ারল্যান্ডে সত্যিকারের ম্যাচ খেলার আগে আমরা তৈরি হয়ে যাব বলে আমি মনে করি।’

কথা হচ্ছে পেসারদের ইনজুরি নিয়ে। বোলিং কোচ ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি কোর্টনি ওয়ালশ প্রধান কোচকে আয়ারল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজে ব্যাকআপ পেসার নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব করেছেন। ওয়ালশ বোলারদের রোটেট করে বা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেলাতে চান। আগের দিন দেশের সেরা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবালও বিশ্বকাপের খেলোয়াড়দের ব্যাপারে এই কথা বলছিলেন। দুই প্রসঙ্গে এক জায়গায় এলে কোচ রোডস বললেন, ‘কিছু দুশ্চিন্তা আছে। রুবেলের (হোসেন) সাইড স্ট্রেইন, মোস্তাফিজুরের (রহমান) গোড়ালিতে সমস্যা, সাইফউদ্দিন কনুইয়ের সমস্যা নিয়ে খেলছে। মাশরাফীর (বিন মোর্ত্তজা) ব্যাপারটা তো জানেন। সবসময়ই থাকে। কিন্তু ওয়ালশ যা চাচ্ছে তা হলো, দরকার হলে আমরা যেন কয়েকজন খেলোয়াড় (আয়ারল্যান্ডে) নিয়ে যাই। এই খেলোয়াড়রা উন্নতি ধীর হলে আমরা খেলোয়াড়দের আনব।’ তাসকিন আহমেদ ক্যাম্পে অন্যদের সঙ্গে আছেন। রোডস অবশ্য আপাতত কেবল ব্যাকআপ তৈরি রাখার পক্ষে।

‘তামিম এমন বলছিল যে কাউকে বিশ্রাম বা সুযোগ দেওয়া যায়, তাতে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে। ম্যাচ জেতার সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজটাও জিতলে দারুণ হবে।’ রোডস বলছিলেন, ‘ত্রিদেশীয় সিরিজে আমরা কিছুটা মিশ্রণ ঘটাতে চাইব। কিন্তু সতর্ক থাকতে হবে যে গা আলগা না হয়ে যায়। বিরাট পরিবর্তন আনব না। সবাইকে সতেজ রাখতে কিছু জায়গায় ভাগাভাগি হবে।’

বিশ্বকাপে বোলারদের কাজ কঠিন হবে। ব্যাটসম্যানদের তাই বড় সংগ্রহ গড়ার বার্তা এখনই দিয়ে রাখলেন কোচ, ‘আমাদের বড় রান করা দরকার হতে পারে। ইংল্যান্ডে তা করা সহজও হবে।’

বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে আইপিএলেই খেলার মধ্যে দেখতে চাইছেন রোডস। শেষ ম্যাচটা খেলার সুযোগ মিলেছে তার। আর রোডস বলছিলেন, ‘এটা ঝুঁকির হলেও আমি চাই সানরাইজার্সের (হায়দ্রাবাদ) হয়ে আরও দুই-তিনটা ম্যাচ খেলুক। প্র্যাকটিসটা তাতে হয়ে যাবে। তাকে ধারালো, ফিট ও মাঠে দ্রুতগামী লাগছে। সাকিবের জন্য ভালো ইঙ্গিত এটা। বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডারেরও খেলাটা দরকার।’