সরকারকে ‘ভয়ঙ্কর অবস্থা’ থেকে বের হওয়ার উপায় বললেন মওদুদ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্মানের সঙ্গেই হবে বলে মনে করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। একই সঙ্গে বর্তমান ‘ভয়ঙ্কর অবস্থা’ থেকে বের হয়ে আসতে সরকারকে উপায়ও বাতলে দিয়েছেন তিনি।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী মহিলাদল আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- প্যারোলের আবেদন করলে মুক্তি বিবেচনা করা যায়। আমরা বলতে চাই- যদি প্যারোলের কথাই বলেন, তাহলে আপনার আইনজীবীদের বলে দেন তারা যেন জামিনের বিরোধিতা না করে। তাহলে তো তিনি (খালেদা জিয়া) জামিনেই মুক্তি পেতে পারেন। প্যারোলের কোনো প্রয়োজন হবে না।”

তিনি বলেন, “আজকে এটা স্পষ্ট যে, এই সরকার চায় না খালেদা জিয়া মুক্ত হোক। কারণ তারা জানে, বেগম জিয়ার মুক্তি মানে গণতন্ত্রের মুক্তি, দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে এবং একদলীয় শাসনের অবসান ঘটবে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরে আসবে।”

বিএনপির জ্যেষ্ঠ এ নেতা বলেন, ‘সরকার প্রধানসহ তাদের নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন সময় বলেছেন- বিএনপি থেকে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তারা যেন সংসদে যান। তারা সংসদে যান আর না যান, সংসদের বৈধতা কখনোই অর্জন করা সম্ভব হবে না।”

তিনি বলেন, “জাহিদুর রহমান সংসদে গিয়েছেন। যদি আরও দু-একজন যান, সরকারের কী সুবিধা হবে জানি না। তবে দেশের মানুষ জানবে এর কারণে এই সংসদের বৈধতা কখনোই আসবে না এবং আসতে পারে না। কারণ এই সরকার জনগণের প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত হয়নি। সংসদে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেনি।”

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন কোনো ক্রমেই এই সংসদকে বৈধতা দেয় না এবং দিতে পারে না মন্তব্য করে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের কারণে দেশে একটা শূন্যতা বিরাজ করছে। এই শূন্যতা সরকারের জন্য ভয়ঙ্কর, দেশের মানুষের জন্যও ভয়ঙ্কর।

তিনি বলেন, “আমি বলবো রাজনীতিতে কখনোই শূন্যতা বিরাজ করে না। সুতরাং অবিলম্বে একটা নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। এই নির্বাচন দিলেই এই শূন্যতা থাকবে না। আপনার যে ভয়ঙ্কর অবস্থায় আছে তা থেকে মুক্তি পাবেন।

এসময় জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতান আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।