রাস্তার পাশের ৭০০ গাছ লুট কুষ্টিয়ায় তদন্তে নেমেছে দুদক

কুষ্টিয়ায় মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়নের নামে প্রভাবশালী মহলের নেতৃত্বে সড়ক বিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় অর্ধকোটি টাকার ছোট-বড় ৭০০ সরকারি গাছ কেটে নিয়ে গেলেও কিছুই জানেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।  কুষ্টিয়া-মেহেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ওইসব গাছের কোনো অংশ কিংবা বিক্রির টাকা কোনো মসজিদ-মাদ্রাসায় দেওয়াও হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এক মাসের বেশি সময় ধরে এসব গাছ কাটা হলেও সংশ্লিষ্ট কারও চোখে পড়েনি এটা অবিশ্বাস্য। বরং যা কিছু হয়েছে তা সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশেই হয়েছে; এমন অভিযোগ খতিয়ে দেখতে অবশেষে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।  দুদক এরইমধ্যে কেটে নেওয়া ৭০০ গাছের তালিকা করেছে।

সড়ক বিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্র্তৃপক্ষ বলছে, যারা এভাবে চুরি করে সরকারি গাছ কেটেছে তাদের বিরুদ্ধে মামলাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় গত শনিবার বেলা সাড়ে ৩টায় ঘটনাস্থল কুষ্টিয়া-মেহেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের মশান বাজারের কাছ থেকে গাছ কাটার সময় একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মিরপুর উপজেলার কুষ্টিয়া-মেহেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের তাঁতিবন্দ গ্রামের হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও মসজিদের কমিটিসহ স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারা প্রায় এক কিলোমিটার এলাকার এসব গাছ কেটে নেন। এক মাসের বেশি সময় ধরে এসব গাছ প্রকাশ্যে কেটে নিতে থাকলেও কেউ মুখ খোলেনি। হঠাৎ দুদকের লোক এসে তদন্ত শুরু করলে তারা বুঝতে পারেন, আইন ভঙ্গ করে এসব সরকারি গাছ কাটা হয়েছে। তাছাড়া মসজিদ-মাদ্রাসার নাম করে এসব গাছ কাটা হলেও এখনো কোনো টাকা মসজিদের তহবিলে কেউ জমা দেননি বলে জানান ওই মসজিদের কয়েকজন মুসল্লি।

তারা বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে গাছ কেটে কেউ যদি আত্মসাৎ করেন তাহলে সরকারি গাছ কাটার দায়ে তাদের বিচার করা হোক।

তাঁতিবন্দ গ্রামের হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও মসজিদের সভাপতি রিয়াজ উদ্দীন বলেন, ‘এসব গাছ তো আমাদেরই। এই গাছ কাটতে কারও অনুমতির প্রয়োজন হয়নি। গাছ বিক্রির টাকা আমাদের হাতে আসেনি।’

মিরপুর-ভেড়ামারা অঞ্চলের বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা লিয়াকত আলী জানান, এসব গাছ কাদের বা কারা এসব গাছ কাটার অনুমতি দিয়েছেন তা কিছুই জানেন না তিনি।  বন বিভাগের কেউ এসব গাছ কাটার অনুমোদন দেয়নি।

সওজ কুষ্টিয়ার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মৃন্ময় সাহা বলেন, সড়ক বিভাগের এসব গাছ যারা কেটেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে এরই মধ্যে দুদক তদন্তে নেমেছে। দুদকের পরামর্শে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।এলাকাবাসী বলছে, সওজের মালিকানাধীন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের খালপাড়ের প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কাটা হয়েছে এক হাজারের বেশি গাছ। যার মধ্যে বিভিন্ন জাতের শতাধিক বড় গাছ রয়েছে। এগুলোর একেকটির দাম ৩০ হাজার টাকার বেশি হবে। গাছগুলোর মধ্যে ছিল শিল কড়ই, শিশু, মেহগনি, সেগুন, নিমসহ মূল্যবান বিভিন্ন গাছ। এ ছাড়া ছোটখাটো গাছও ছিল।

পাউবো কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী পীযূষ কৃষ্ণ কুন্ডু বলেন, তাদের প্রায় সাড়ে ৩শ গাছ কাটার ব্যবস্থা নিতে মিরপুর থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলায় করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মিরপুর থানার ওসি আবুল কালাম জানান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে সরকারি সম্পদ কুক্ষিগত করার সুযোগ নেই। গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হবে। ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে মশান গ্রামের পিয়ারুল শাহকে (৩৫)।