জয়পুরহাটে দিন-দুপুরে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি কেটে নিয়ে গেল রাস্তার সরকারি গাছ। এদিকে ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন গাছগুলো জব্দ করে স্থানীয় ইউপি সদস্যদের কাছে হেফাজতে দিয়েছেন।
ক্ষেতলাল উপজেলার ইটাখোলা-জামালগঞ্জ ঘুগোইল গ্রামের বাইপাস পাকা রোডের এ গাছগুলো কাটা হয়। গাছগুলো কাটার পর তা ধামাচাপা দিতে জয়পুরহাট জেলা পরিষদে গাছ কাটার বিষয়টি স্বীকার করে লিখিত আবেদন করেছেন এলাকার প্রভাবশালী আব্দুর রাজ্জাক।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার ইটাখোলা-জামালগঞ্জ রোডের ঘুগোইল গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের জমিতে কয়েক রকমের গাছ লাগানো ছিল। গত কয়েক দিন আগে তার জমির গাছগুলো কাটা শুরু করেন এবং সেগুলো কেটে নিয়ে যাওয়ার সময় গত বৃহস্পতিবার পাকা রাস্তার সঙ্গে সরকারি রাস্তার সীমানার শিমুল ও ইউক্যালিপটাসসহ পাশের অন্যান্য কয়েকটি গাছ কেটে নিয়ে যায় আব্দুর রাজ্জাকের লোকজন। পরে স্থানীয়রা জেলা পরিষদে খবর দিলে অফিসের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে গাছগুলো কাটা হয়েছে এবং পাশেই মজুত করে রাখা হয়েছে। পরে সু-কৌশলে গাছ কাটার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে জেলা পরিষদ বরাবর ভুলবশত গাছগুলো কাটা হয়েছে বলে লিখিত আবেদন করেন আব্দুর রাজ্জাক।
বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরাফাত রহমান ঘটনাস্থলে এসে গাছগুলো জব্দ করে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল ওয়াদুদকে তার হেফাজতে রাখতে নির্দেশ দেয়।
এ ব্যাপারে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমার রাস্তার পাশের জমির গাছগুলো কাটার সময় সরকারি কয়েকটি গাছ ভুলবশত কাটা হয়েছে। কাটার পরই আমি জেলা পরিষদে একটি লিখিত আবেদন করেছি।
ক্ষেতলাল উপজেলার তুলসীগঙ্গা ইউনিয়নের ৮নং ওয়াডের্র ইউপি সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ইউএনও মহোদয় এসে গাছগুলো উদ্ধার করে আমার হেফাজতে দিয়েছেন।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরাফাত রহমান বলেন, আমি গাছ কাটার খবর শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছগুলো জব্দ করে স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় রাখার নির্দেশ দিয়েছি এবং রাস্তার গাছ কেটেছে কিনা সে জন্য সার্ভেয়ারকে পাঠানো হয়েছে রাস্তার সীমানা মাপার জন্য। সার্ভেয়ারের রিপোর্ট পেলেই পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ অতুল মণ্ডল বলেন, আমাদের কাছে গাছ কাটার বিষয়ে একটি লিখিত আবেদন এসেছে। সেটার তদন্ত চলছে, সোমবারের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।