উপমন্ত্রীর কাছে শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চট্টগ্রামের (ইউএসটিসি) ইংরেজি বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের কাছে শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন। ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদ শ্রেণিকক্ষে ক্রমাগত যৌন নিপীড়ন করেছেন বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বিভিন্ন সময় এ বিষয়ে অভিযোগ করেও বিচার না পেয়ে তারা উপমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছেন।

উপমন্ত্রীর নির্দেশে এ অভিযোগ তদন্তে নেমেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। তবে অভিযুক্ত অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শিক্ষক রাজনীতির শিকার হয়েছেন তিনি।

অভিযোগকারীদের মধ্যে ১৭ জন ছাত্রী ও ৫ জন ছাত্র আছেন। স্মারকলিপিতে ১৪টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে মাসুদ মাহমুদের বিরুদ্ধে।

চট্টগ্রামে উপমন্ত্রী নওফেলের সঙ্গে দেখা করে গত ২৫ এপ্রিল শিক্ষার্থীরা স্মারকলিপি দেন। উপমন্ত্রী বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সিএমপি কমিশনারকে লিখিত নির্দেশনা দেন। ওই নির্দেশনা নিয়ে শিক্ষার্থীরা রবিবার সিএমপি কমিশনারের সঙ্গে দেখা করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি তদন্তের জন্য আমাদের উত্তর জোনের উপকমিশনার বিজয় কুমার বসাককে দায়িত্ব দিয়েছি। তিনি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

অভিযুক্ত শিক্ষক মাসুদ মাহমুদ জানান, তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪০ বছর শিক্ষকতা করেছেন। অবসর গ্রহণের পর পাঁচ মাস আগে তিনি যোগ দিয়েছেন ইউএসটিসির ইংরেজি বিভাগের উপদেষ্টা হিসেবে। যোগ দেওয়ার পর তিনি ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার মান উন্নত করার জন্য কয়েকজনকে চাকরিচ্যুত করেন এবং নতুন কয়েকজনকে নিয়োগ দেন। চাকরিচ্যুত শিক্ষকরা পরে আরও কয়েকজন শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনেছেন।