যৌন হয়রানি রোধে আইন তৈরির নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

যৌন হয়রানি রোধে স্বতন্ত্র আইনের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির মতো ঘটনা রোধ করতে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে কি না তা জানতে চাওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে।

রিট আবেদনের বিষয়টি সোমবার নিশ্চিত করেন রিটকারী আইনজীবী বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম ফিরোজ।

রিটের পাশাপাশি দুই সপ্তাহের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে এ বিষয়ে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ চাওয়া হয়েছে বলে জানান এই আইনজীবী। 

তিনি জানান, রিটে আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ২১ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

কার্য তালিকায় আসলে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট একটি বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হতে পারে বলে জানান রিটকারী আইনজীবী।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে নারী ও শিশুদের যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ২০০৮ সালের আগস্টে হাইকোর্টে করা এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানি নিয়ে পরের বছরের ১৪ মে মাসে হাইকোর্ট এক রায়ে যৌন নিপীড়নের সংজ্ঞাসহ এটি রোধে সুনির্দিষ্ট দিকে নির্দেশনা দেয়।

রায়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশে বলা হয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে এ বিষয়ে অভিযোগ কেন্দ্র থাকবে। এই অভিযোগ কেন্দ্র পরিচালনার  জন্য একজন নারীকে প্রধান করে ন্যূনতম পাঁচ সদস্যের কমিটি থাকবে। কমিটি তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালত দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিচারিক ব্যবস্থা নেবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

রায়ে আরও বলা হয়, যতদিন পর্যন্ত জাতীয় সংসদে যৌন হয়রানি রোধে কোনো আইন প্রণয়ন না হয় ততদিন বাংলাদেশ সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টের দেওয়া এই রায়ের নীতিমালাকে আইন হিসেবে ধরে নিতে হবে।

ফাওজিয়া করিম ফিরোজ বলেন, ‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধে হাইকোর্টের ২০০৯ সালের রায়ে বলা আছে, এ বিষয়ে কোনো আইন না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের এই রায়টিকে আইন হিসেবে মানতে হবে। কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠান রায়ের আলোকে এ সংক্রান্ত কমিটি গঠন করেনি। এমন পরিস্থিতে উচ্চ আদালতের ওই রায়কে আইন হিসেবে মানতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল অফিস থেকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আবেদন জানিয়েছি। এছাড়া যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে আইন তৈরি করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।’