সারা দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অগুনতি প্রতিভা। বিভিন্ন সময়ে রিয়্যালিটি শো’র মাধ্যমে সেসব ছিটেফোঁটার সন্ধানও পেয়েছেন সংস্কৃতিপ্রেমীরা। এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের কল্যাণে হরহামেশাই সন্ধান মিলছে বিস্ময়কর প্রতিভার। এবার ফেসবুকে ঝড় তুলল ছোট্ট মেয়ে সাম্যর গান। নজরুলের ‘মোর ঘুম ঘোরে এলে মনোহর’ গানটি অসাধারণ গায়কিতে উপস্থাপন করে মেয়েটি। জামালপুর জেলার মেলান্দহ থানার ইউএনও তামিম ইয়ামীন সেই গান ভিডিও করে প্রকাশ করেন নিজের টাইম লাইনে। গানটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ঝড় তুলে ফেসবুকে। বেশির ভাগ কমেন্টেই শ্রোতারা মুগ্ধতা প্রকাশ করেন।শুধু তাই নয়, ছোট্ট এই মেয়েটির গান মুগ্ধ শ্রোতারা জানতে চেয়েছেন মেয়েটির নাম-পরিচয়ও। তামিম ইয়ামীন ফেসবুক মারফত মেয়েটির পরিচয় তুলে ধরেছেন। ফেসবুকে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামিম ইয়ামীন লিখেন, ‘সারা দেশের কণ্ঠ হয়ে বেজে ওঠা মেয়েটির নাম সাম্য। পুরো নাম লিউনা তাসনীম সাম্য। ওকে দেখতে চাইলে আপনাকে আসতে হবে জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলায়। আর যদি কষ্ট করে এত দূর না আসতে চান, তবে কিছুদিন অপেক্ষা করুন। সে আপনাদের হৃদয়ের অন্দরে পৌঁছে যাবে। মূলত তার গান দিয়ে।’
তিনি মেয়েটির পরিচয় তুলে ধরে বলেন, ‘মা আরজুমান মোস্তারি ও বাবা আজমত আলীর ২য় সন্তান সাম্য। মেলান্দহ উপজেলা সমাজসেবা অফিসের অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত আছেন আজমত আলী। উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির শিক্ষার্থী সাম্য গান, ছবি আঁকা ও নাচের পাশাপাশি সাম্য পড়াশোনাও করে এবং খুব ভালোভাবে করে। সে উত্তর মেলান্দহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
সাম্যর গান প্রসঙ্গে তামিম ইয়ামীন বলেন, ‘গানটির লাইভ দেখে সাতক্ষীরা সদরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমার ব্যাচমেট দেবাশীষ চৌধুরী ফরোয়ার্ড করেন জুবায়ের আল মাহমুদ রাসেলকে। তিনি তার অ্যাকাউন্ট থেকে আপলোড করার পর ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি তাদের প্রতি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘মোর ঘুম ঘোরে এলে মনোহর’ গানটি একটি প্রতিযোগিতায় গাওয়ার জন্য সিলেক্ট করে দিয়েছিলেন সোমেশ্বরী নদী। ধন্যবাদ তাকেও।’
সাম্যকে কীভাবে পেলেন তাও জানিয়েছেন তামিম। তিনি বলেন, ‘সাম্যকে যে আমরা এত কাছে পাই এর অন্যতম কারণ তার পাশে বসা থাকা মেয়েটি। আমাদের একমাত্র মেয়ে লিলিথ। এরা দুজন বন্ধু হওয়ায় সারা দিন এক সঙ্গেই থাকে। এই সুযোগে আমরাও কাছে পাই ওদের।’
এদিকে নিজের টাইম লাইনে ভিডিও প্রকাশ করার পর অনেকেই জানতে চেয়েছিলেন সাম্য তামিম ইয়ামীনের মেয়ে কিনা। সেই প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছেন তিনি। তামিম বলেন, ‘অনেকেই প্রথম দিন আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। কেউ কেউ আমাকে জিজ্ঞাসা করছেন সাম্য আমার মেয়ে কি না? তাদেরকে অজান্তেই বিভ্রান্ত করার জন্য দুঃখিত। তবে কী, সাম্য আর আমার মেয়ে এক সঙ্গে খেলে। তারা এক সঙ্গে গায়, আঁকে, নাচে, পুতুলের বিয়ে দেয়, পাঠশালা যায়। সে কি আমার মেয়ে নয়!’
সাম্যর উদ্দেশ্যে তামিম ইয়ামীন বলেন, ‘সাম্য তোমাকে ভালোবাসা। অন্তত একবার হলেও যে তুমি এই মলিন ধুলার পৃথিবীতে আসতে রাজি হইছো এর জন্য কৃতজ্ঞতা।’