এবার ভারতে বোরকা নিষিদ্ধের দাবি শিবসেনার

নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অযোধ্যা সফরের মুখে ভারতে বোরকা নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছে শিবসেনা। যদিও বিজেপি ইতিমধ্যেই শিবসেনার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে।

সম্প্রতি শ্রীলঙ্কায় বোরকা নিষিদ্ধ করার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শিবসেনার দাবি- রাবণের লঙ্কায় বোরকা নিষিদ্ধ হলে, রামের অযোধ্যায় কেন নয়?

বুধবার নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অযোধ্যা যাওয়ার কথা। মোদীর ওই সফরের কথা উল্লেখ করে শিবসেনার মুখপত্র ‘সামনা’ এবং ‘দোপহর কা সামনা’ এ প্রসঙ্গে লিখেছে- ‘রাবণে লঙ্কায় বোরকা নিষিদ্ধ হয়েছে। রামের অযোধ্যায় কবে হবে? অযোধ্যা সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। তার আগে ওঁকে এই বলে রাখলাম।’

ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, বোরকার পাশাপাশি নেকাব ও মুখ ঢেকে রাখে এ রকম সব ধরনের বিষয় নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে হিন্দুত্ববাদী শিবসেনা। তাদের মতে- ‘যারা বোরকা পরে, মুখ ঢেকে ঘুরে বেড়ান, তারা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক। কাউকে শনাক্ত করতে নিরাপত্তা বাহিনীর যাতে সমস্যা না হয়, তার জন্য অবিলম্বে বোরকা নিষিদ্ধের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত’।

এদিকে, বিজেপির শিবসেনার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। দলের জাতীয় মুখপাত্র এবং রাজ্যসভা সাংসদ ডিভিএল নরসিংহ রাও এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আটওয়াল বোরকা নিষিদ্ধ করার শিবসেনার প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছেন।

আটওয়াল বলেন, ‘মানছি কিছু লোক বোরকার অপব্যবহার করছে। কিন্তু বোরকা পরিহিত সব মহিলাকে সন্ত্রাসবাদী বলা ঠিক নয়। প্রথামাফিক বোরকা পড়ার অধিকার রয়েছে তাদের। তাই মহারাষ্ট্র বা ভারতে কোনও জায়গাতেই বোরকা নিষিদ্ধ করা উচিত নয়।

এর আগে, গত সোমবার বোরকা, নেকাব এবং মুখ ঢাকার যাবতীয় পোশাকের উপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে চিঠি দিয়েছিল হিন্দু সেনা সংগঠনও।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি শ্রীলঙ্কায় গির্জা ও হোটেলে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৫৩ জন নিহত হওয়ার ঘটনায়, বোরকা নিষিদ্ধ করে দেশটির সরকার। এছাড়া অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, ফ্রান্স-সহ এই মুহূর্তে বিশ্বের ১৫টি দেশে বোরকা নিষিদ্ধ। ইউরোপের দেশগুলির মধ্যে ২০১১ সালে ফ্রান্সই প্রথম বোরকা নিষিদ্ধ করে।