দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ না নেওয়ার ব্যাখ্যা চাইলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
জাতীয় প্রেসক্লাবে দলের কারাবন্দী চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয়তাবাদী নবীন দলের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ ব্যাখ্যা চান।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘প্রশ্ন উঠেছে, সবাই পার্লামেন্টে গেল মহাসচিব গেল না কেন ? এটা আমার কাছেও খটকা লাগে, দলের সিদ্ধান্তে সবাই গেলে মহাসচিব যাবেন না কেন? আলাদা কারো ভালো থাকা বা আলাদা কারো হিরো হওয়ার সুযোগ নেই। কেন সংসদে যোগ দিলেন না নিশ্চয়ই সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দেবেন তিনি।’
তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের সবচেয়ে খারাপ সময় যাচ্ছে। কারণ প্রধানমন্ত্রী যদি জনগণের ভোটে জয়লাভ করত তাহলে তার মুখ থেকে নাবালক সূচক বক্তব্য আসত না। আর তারেক রহমানের বিরুদ্ধে যখন শেখ হাসিনা বলেন, আমি তখন খুব প্রাউড ফিল (গর্ববোধ) করি। কেন? কারণ তারেক রহমান রাজনীতিতে একটা ফ্যাক্ট। তারেক রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে আলোচিত। তাকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হবে এটাই স্বাভাবিক’।
‘প্রধানমন্ত্রী লন্ডন গেছেন চোখের চিকিৎসা করাতে নাকি মনের চিকিৎসা করাতে আমি জানি না। তবে তার এ সফরের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে আরেকটি ষড়যন্ত্রের আভাস পাচ্ছি।’
‘বিএনপির মধ্যে সমন্বয় নেই’, এমন দাবি করে দলটির এই নেতা বলেন, ‘আমাদের পাঁচজন গেছেন পার্লামেন্টে। নেত্রীর কথা, দেশের কথা বলবেন। উনারা বলেছেন, জনগণের চাপ, আমরা কেউ কেউ বেকুবের মতো বলছি সরকারের চাপ। জনগণের চাপ সত্য নাকি সরকারের চাপ? আমরা এলোমেলো কথা বলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছি।’
তিনি বলেন, ‘১৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা তিন দিনের মধ্যে জামিন পেলেন, কিন্তু খালেদা জিয়ার ১৪ মাস লাগবে কেন? বিচারপতিদের সঙ্গে আমাদের শত্রুতা আছে ? তাহলে তারা কেন এমন আচরণ করছেন? তারা এমন করছেন সরকারের নির্দেশে। সরকারের নির্দেশ না মানলে তাদের চাকরি থাকবে না।’
‘সংসদে যোগদানের সঙ্গে খালেদা জিয়ার মুক্তির সম্পর্ক নেই’ উল্লেখ করে গয়েশ্বর বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্তের আগে জাহিদুর রহমান শপথ নেয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পরবর্তীতে বাকিরা দলীয় সিদ্ধান্তে শপথ নিয়েছেন। আমাদের সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক না বেঠিক এ জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আমাদের সবাইকে এক সুরে কথা বলতে হবে।’
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি হুমায়ুন আহমেদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।