ভারতের লোকসভা নির্বাচনে বলিউড তারকাদের প্রায় সবাই ভোট দিতে গেলেও সেখানে ছিলেন না অক্ষয় কুমার। অক্ষয়কে ভোট দিতে দেখা না গেলেও তার স্ত্রী টুইঙ্কেল খান্নাকে অবশ্য ভোট দিতে যেতে দেখা যায়। এখবর ছড়িয়ে পড়তেই অক্ষয় কুমারের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
ভোট দিতে না যাওয়ায় অক্ষয়কে নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই জানা যায় সে কানাডার নাগরিক। এ কথা জানার পর অনেকেই অক্ষয়কে তার নাগরিকত্ব নিয়ে খোঁচা দিতে শুরু করেন। সম্প্রতি, মুম্বাইয়ে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গেলে এক সাংবাদিক তার ভোট না দেওয়ার কারণ জানতে চান। সেসময় অক্ষয় তাকে 'চলুন চলুন' করে প্রশ্ন এড়িয়ে যান। এই ভিডিও ভাইরাল হতেই অক্ষয়কে তার নাগরিকত্ব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রোল করেন অনেকেই।
এবার নিজের নাগরিকত্ব নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ খুললেন অক্ষয় নিজেই। অভিনেতা লেখেন, 'আমার নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে অনেকেই খারাপ কথা বলছেন। আমি তো আমার নাগরিকত্বর বিষয় কোনোদিনই লুকিয়ে রাখিনি। আমার কাছে কানাডার পাসপোর্ট রয়েছে, সে কথা যেমন আমি কোনো দিনই লুকিয়ে রাখিনি, তেমন এটা সত্যি, আমি গত ৭ বছরে কখনো কানাডা যাইও নি। আমি আমার দেশের হয়ে কাজ করেছি। আমি আমার সমস্ত কর জমা দিয়েছি। তাই আমার দেশপ্রেম নিয়ে নতুন করে কারওর কাছে কোনো প্রমাণ দেওয়ার কিছু নেই। তাই যখন আমার নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিতর্ক তৈরি করা হয় তখন খারাপ লাগে। এটা আমার একান্তই ব্যক্তিগত বিষয়, অরাজনৈতিক বিষয়। আমি এভাবেই দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করে দেশকে দিনে দিনে আরও শক্তিশালী করে তুলতে চাই।'
এদিকে গত দুবছর আগেই এক সংবাদ সংস্থার স্টুডিওতে বসে তাকে কানাডার সাম্মানিক নাগরিকত্ব প্রদানের কথা জানিয়েছিলেন অক্ষয় কুমার। কিন্তু, কানাডা সরকার সাম্মানিক নাগরিকত্ব প্রদানের যে তালিকা সম্প্রতি প্রকাশ করেছে তাতে গোটা বিশ্বের ৫ জন নেতার নাম রয়েছে। তবে তার মধ্যে অক্ষয়ের নাম নেই।
পাশাপাশি জানা যায়, সাম্মানিক নাগরিকত্ব পাওয়া কানাডার কোনও নাগরিক সেদেশের পাসপোর্ট, কিংবা দেশটির কোনও আইনি সুবিধা পেতে পারেন না।
অন্যদিকে ভ্যানকুভার অবজারভারের দেওয়া তথ্য অনুসারে অক্ষয় কানাডার নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন এবং তার কয়েক সপ্তাহর মধ্যেই তার আবেদন মঞ্জুর করা হয়।