সুদানে প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরের তিন দশকের শাসন অবসানের বিক্ষোভে গত ১০ এপ্রিল স্লোগানরত ২২ বছর বয়সী প্রকৌশলের ছাত্রী আলা সালাহর ছবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে অনলাইনে। এর মধ্য দিয়ে সারা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন এ নারী। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজর দেয় সুদানের বিক্ষোভে। দ্রুতই সুদানে বিপ্লবের ‘প্রতীক’ বনে যান আলা সালাহ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো তার সাহসিকতা ফলাও করে প্রচার করে তাকে ব্যতিক্রমী হিসেবে প্রচার করতে থাকে। কিন্তু তারা সামনে আনেনি সুদানের বিপ্লবে নারীদের বীরত্বগাথার বিষয়টি।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, সুদানের ইতিহাস ঘাঁটলে অনেক নারীকে পাওয়া যাবে, যারা বড় পরিবর্তনের সূচনা করেছেন। দেশটির মেরুর নারী কান্দাকার সামরিক কৌশল ৩৩২ অব্দে আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের নুবিয়ানদের ভূমি দখল পরিকল্পনা ঠেকিয়ে দেয়। ঔপনিবেশিক শাসনের বিরোধিতা করায় সুদানের প্রথম নারী চিকিৎসক ডা. খালিদা জহিরকে ১৯৪৬ সালে গ্রেপ্তার করে ব্রিটিশরা। দেশটির বিখ্যাত কমিউনিস্ট ও সুদানিজ উইমেন’স অ্যাসোসিয়েশনের নেতা ফাতিমা ইব্রাহিম নারীদের ভোটাধিকার, সমান বেতন ও মাতৃত্বের ছুটির জন্য লড়েছিলেন।
মধ্য ও উত্তর সুদানের অনেক নারীবাদী স্বীকৃতি পেয়েছেন। তবে একনায়তন্ত্র, রাজনৈতিক মেরুকরণ ও রাষ্ট্রীয় সহিংসতার বিরুদ্ধে আন্দোলন করা প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোর অনেক নারীই তা পাননি। এ দিক থেকে আলা শুধু বিখ্যাত নারীবাদী নন, শাসকবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া প্রান্তিক নারীদেরও উত্তরসূরি। মর্যাদা ও স্বাধীনতার জন্য পূর্বসূরিদের লড়াইয়ের কারণেই আজ আলার মতো নারীরা এত সাহস নিয়ে শাসকদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পেরেছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে অনেক বেশি লেখা হয়েছে আলার ছবি নিয়ে। কিন্তু সেগুলো তার কথা তুলে ধরতে বড় পরিসরে ব্যর্থ হয়েছে। আলার স্লোগানে ‘তারা ধর্মের নামে আমাদের বন্দি করেছে, ধর্মের নামে পুড়িয়েছে...ধর্মের নামে হত্যা করেছে’র মতো ইঙ্গিতবাহী লাইন। এ লাইনগুলো তিনি নিয়েছিলেন সুদানি কবি আজহারি মোহামেদ আলির কবিতা থেকে। কবিতাটির আরও কয়েকটি লাইনের মধ্যে ছিল, ‘কিন্তু ইসলাম নির্দোষ। ইসলাম আমাদের মুখ খুলতে এবং নিষ্ঠুর নিপীড়নকারীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে বলে...গুলি হত্যা করে না। হত্যা করে মানুষের নীরবতা।’
আলার এই কবিতা আবৃত্তি কোনো ব্যতিক্রমী কাজ ছিল না। জনসমক্ষে তার এই তৎপরতা সুদানি নারীদের দীর্ঘ ঐতিহ্যের স্মারক। তারা মৃত ব্যক্তিদের প্রশংসা, যোদ্ধাদের নীতিকথাকে সামনে আনতে কবিতা আবৃত্তিকে বিভিন্ন সময়ে হাতির বানিয়েছেন।