ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট কোথায় কেউ জানে না

ভিয়েতনামের ৭৫ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট গুয়েন ফু ত্রংকে তিন সপ্তাহ ধরে কোথাও দেখা যাচ্ছে না। দেশটির সাধারণ জনগণ ছাড়াও প্রশাসনেরই অনেকে জানেন না কী হয়েছে প্রেসিডেন্টের। এ নিয়ে যত দিন যাচ্ছে, ততই রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে ভিয়েতনামের রাষ্ট্রযন্ত্রে। ফলে প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতি ঘিরে এরই মধ্যে অনেক ষড়যন্ত্র তত্ত্বেরও জন্ম হয়েছে।

গত ১৪ এপ্রিল শেষবার প্রেসিডেন্ট ত্রংকে জনসমক্ষে দেখা যায়। গত শুক্রবার ছিল দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট লি দুক আনহের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। ভিয়েতনামের মিডিয়া ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিক সম্প্রদায় আশা করেছিল ওই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু সবাইকে ভুল প্রমাণিত করে উপস্থিত হননি তিনি। এ বিষয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম থেকেও কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

সরকারের মুখপাত্র অবশ্য অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্টের যোগ না দেওয়া প্রসঙ্গে বলেন, ‘অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং পরিবর্তিত আবহাওয়ার কারণে প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্যের সমস্যা চলছে। তবে খুব জলদিই প্রেসিডেন্ট কাজে ফিরবেন।’ কিন্তু মুখপাত্রের এমন বক্তব্যেও প্রেসিডেন্টকে ঘিরে সন্দেহ শেষ হচ্ছে না।

ভিয়েতনামে দীর্ঘদিন ধরেই একটি পার্টির অধীনে রাষ্ট্রক্ষমতা পরিচালিত হচ্ছে। দেশটিতে কোনো অশান্তি বা অস্থিতিশীলতা নেই, এমন একটি চিত্র দেশটির নেতারা সব সময়ই ধরে রাখার চেষ্টা করেন। বিশেষত ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর তারা এই কৌশল অবলম্বন করে।

বিবিসির ভিয়েতনামবিষয়ক সাংবাদিক জিয়াং গুয়েন বলেন, ‘গত নভেম্বরে সরকারের কর্মকর্তা এবং পার্টির শীর্ষ নেতাদের স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্যকে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে একটি আইন পাস করা হয়। পার্টির শীর্ষ নেতাদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে যাতে কোনো গুজব এবং এর সুযোগ নিয়ে সরকারবিরোধী কোনো বহির্শক্তি হামলা চালাতে না পারে, তাই ওই আইন করা হয়।’

ক্ষমতায় বসার পর থেকে ত্রং দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নিয়ে বেশ কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী এবং পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেন। ওই ঘটনায় ভিয়েতনামে প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। এরই মধ্যে গত ফেব্রুয়ারিতে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন ত্রং।