ফণির প্রভাবে ‘ফাঁকা’ রাজধানী

ঘূর্ণিঝড় ফণির আতঙ্কে রাজধানীর সড়কে গণপরিবহন ও যাত্রীর সংখ্যা খুবই কম দেখা গেছে। শুধু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও অফিসগামীদের দেখা যায় সড়কে। ফণির পূর্বাভাস পেয়ে গতকাল শনিবার অধিকাংশ স্কুলই ছুটি ঘোষণা করা হয়। খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে নামেননি।

রাজধানীর মিরপুর, আগারগাঁও, খামারবাড়ি, ধানমন্ডি, শাহবাগ, গুলিস্তান, পল্টন, মতিঝিল ও আজিমপুর এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। গত শুক্রবার থেকে গতকাল রাজধানীতে বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে গেছে। মিরপুরসহ বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় হাঁটু পর্যন্ত পানি ওঠে। অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে চলাচল করতে হয় সেসব এলাকার বাসিন্দাদের।

এদিকে মানুষজন বের না হওয়ায় রিকশাচালকদেরও অলস সময় কাটে। গণপরিবহন কম থাকায় কয়েক গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে রিকশায় চলাচল করেন অনেকে।

বিশ্ববিদ্যালয়পড়–য়া যূথী সুলতানা বলেন, ‘প্রতিদিন চাকরির কোচিংয়ের জন্য মিরপুর-১২ থেকে আগারগাঁও আসি। গাড়ির জন্য ৩০-৪০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। তবে আজ আবহাওয়া খারাপের কারণে বাস কম দেখা যাচ্ছে। এক ঘণ্টার মতো দাঁড়িয়ে আছি। বেশি ভাড়া দিয়ে রিকশায় যেতে হচ্ছে।’

মিরপুর-অজিমপুর রোডের নিউ দ্রুতি সার্ভিস লিমিটেডের মালিক হাসান বলেন, ‘ফণির আতঙ্কে গাড়ি চালক ও হেলপার কেউ বাসা থেকে বের হননি। তা ছাড়া রাস্তায় বৃষ্টির পানি জমে গেছে এবং বিভিন্ন সড়কে গাছ ভেঙে রাস্তা বন্ধ আছে।’

ফরিদ উদ্দিন নামে এক রিকশাচালক বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে তালতলা-আগারগাঁও রিকশা চালাই। আজ তেমন কোনো মানুষ রাস্তায় নাই। আমাদের আবার “ফণি” কিসের। পেটের দায়ে ঝড়বৃষ্টিতে ভিজেই রিকশা চালাই। নাইলে না খেয়ে মরতে হবে। মাঝে মাঝে দুই-একজন যাত্রী পাই। রাস্তায় পানি জমলে ১০-২০ টাকা বেশি নেই।’