পাকা ধান নিয়ে বিপাকে হাওরের কৃষক

‘হাওরে পাকনা ধান পইড়া রইছে, কাটতে পারতেছি না মেঘের জন্য, ঠাঠার (বজ্রপাত) ভয়ে ক্ষেতেও কামলারা নামতে চায় না। ফলন ভালো হলেও এই ফণি আমাগোরে বিপদে ফালাইয়া দিছে, আমাদের বড় ক্ষতি কইরা গেল।’ গতকাল শনিবার দুপুরে দেশ রূপান্তরকে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওরের কৃষক নোয়াব আলী। শুধু নোয়াব আলী একাই নন, ঘূর্ণিঝড় ফণির প্রভাবে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে চরম বিপাকে পড়েছে সুনামগঞ্জের ১১টি উপজেলার লাখ লাখ কৃষক। হাওরে পাকা ধান থাকলেও বৃষ্টিপাতের কারণে ক্ষেতে নামতে পারছে না কৃষকরা। এ ছাড়া বৃষ্টিপাতের মধ্যে বজ্রপাত হতে পারে এমন আশঙ্কায় শ্রমিকরাও ধান কাটতে রাজি হচ্ছে না। অন্যদিকে বৃষ্টিপাতের কারণে ধান শুকানো নিয়েও বিপাকে পড়েছে কৃষকরা। কাটা ধান শুকানোর জন্য খলাতেই (ধান শুকানোর জায়গা) ফেলে রেখেছে তারা।

খরচার হাওরের আরেক কৃষক মানিক মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রতি বছরই আমাদের আজাব (দুর্যোগ) লাইগা থাকে। এইবার ধান কাইটা খলায় আনলাম, এখন রোদ না থাকায় শুকাতে পারছি না। এইভাবে আর দুই-একদিন বৃষ্টি হলে ধান পইচা গ্যার (চারা জন্ম নেবে) নেবে।’

সদর উপজেলার হালুয়ারগাঁও এলাকার কৃষক শাহিন আহমদ বলেন, ‘হঠাৎ টানা মেঘ-বৃষ্টি আমরারে বিপদও ফালাই দিছে, আর কয়েকটা দিন বাদে মেঘ অইলে ধান কাটা শেষ অই গেল নে। অখন এমন এক অবস্থা ধানও কাটা যার না, ধান শুকানিও যার না, মহা বিপদ। আমারে কিলা কিতা করতাম কেউ খোঁজখবরও লয় না।’

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত ৩০ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত প্রকৃতির বিরূপ প্রভাবের কারণে সুরমা নদীর পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। এই তিন দিনের ব্যবধানে সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি ১০ ফুট বেড়েছে। তাছাড়া যেখানে হাওরের বেড়িবাঁধগুলোর ডিজাইন লেভেল (উচ্চতা) ৬.৫০ মিটার, সেখানে বর্তমানে সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি ৪.৩৮ মিটার উচ্চতায় আছে। গত শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় জেলায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৪৬ মিলিমিটার।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক ভূঁইয়া বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় ফণির প্রভাবে নিম্নচাপের কারণে কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা বিদ্যমান রয়েছে। তাই পাকা ধান ফেলে না রেখে কেটে ফেলা হবে কৃষক ভাইদের জন্য উত্তম সিদ্ধান্ত।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বশির আহম্মদ সরকার বলেন, ‘জেলার হাওরে বোরো ধানের ৯০ শতাংশই কাটা হয়ে গেছে। আমরা ঘূর্ণিঝড় ফণির প্রভাব থেকে ধান বাঁচানোর জন্য সব রকমের প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে পাকা ধান কেটে ফেলার জন্য কৃষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’