শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বলিউডে নির্মিত সব ছবিই বেশ আলোচিত এবং জনপ্রিয়ও। প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় নানা গলদ তুলে ধরায় এসব ছবির আবেদন ফুরায় না কখনো। আসুন এ রকম পাঁচটি ছবি সম্পর্কে জেনে নিই।
থ্রি ইডিয়টস (২০০৯)
খুব কম সিনেমাপ্রেমিকই আছেন, যারা রাজকুমার হিরানি পরিচালিত এ সিনেমাটি দেখেনি। প্রকৌশলী কলেজের শিক্ষাব্যবস্থা, গৎবাঁধা মুখস্থবিদ্যা ও পড়াশোনার একাডেমিক চাপকে এমন হাস্যরসের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে যে, গল্পের চরম করুণ মুহূর্তে দর্শক যেমন হাসেন, তেমন কাঁদেনও। বাস্তবতা বিবর্জিত দীর্ঘদিনের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থাকে আঘাত হানেন মূল তিন চরিত্র আমির খান, আর মাধবন, শারমান যোশি। তাদের সঙ্গে ছিলেন, কারিনা কাপুর, ওমি বৈদ্য। কলেজের প্রিন্সিপাল হিসাবে সিনেমাটির অন্যতম প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়ে নেন বোমান ইরানি।
মুক্তির পর ভারতে সব ওপেনিং বক্স অফিস রেকর্ড ভঙ্গ করে থ্রি ইডিয়টস। মুক্তির দিন এবং সপ্তাহে বলিউডের সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমা এটি। থ্রি ইডিয়টস ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমা।
এই সিনেমাটি ছয়টি ফিল্ম ফেয়ার, দশটি স্টার স্ক্রিন এবং ষোলোটি আইফা অ্যাওয়ার্ড জিতে নেয়। পরবর্তীতে ২০১২ সালে তামিল ভাষায় নানাবান নামে সিনেমাটি পুনঃনির্মিত হয়।
তারে জামিন পার (২০০৭)
আমির খান অভিনীত শিক্ষাকেন্দ্রিক আরেকটি জনপ্রিয় সিনেমা তারে জামিন পার। সিনেমাটি পরিচালনা ও প্রযোজনাও করেন আমির খান। ডিসলেক্সিয়ায় আক্রান্ত এক ৮-৯ বছরের ছেলেকে কেন্দ্র করে সিনেমাটির কাহিনি রচিত হয়েছে। শিশুর চিন্তা দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে দেখানো হয়েছে এ সিনেমায়। অটিস্টিক বা স্পেশাল চাইল্ডদের প্রতি পরিবার ও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এতে।
সুস্থ ও স্বাভাবিক সন্তানের তুলনায় মানসিকভাবে পিছিয়ে থাকা শিশুদের প্রতি বাবা-মায়েদের বিরূপ আচরণ এখানে গুরুত্ব পায়। দর্শককে নতুন করে ভাবিয়ে তোলে, সেই সঙ্গে দৃশ্য পরম্পরায় ভিজিয়ে দেয় চোখও। হাসির বেশ খোরাকও পাওয়া যায় মূল চরিত্র আট বছরের শিশু চরিত্র ঈশান আওয়াস্তির নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে।
সিনেমাটি দুইটি ন্যাশনাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড, চারটি ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড, চারটি জি সিনে অ্যাওয়ার্ড সহ আরও গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার জিতে নেয় তারে জামিন পার।
৪০৪ (২০১১)
সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার এ সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে র্যাগিং কালচার নিয়ে। র্যাগিংয়ের শিকার হয়ে আত্মহত্যাকারী এক ছাত্রের রুমে আসে আরেক ছাত্র। সেখানে দেখা দেয় নানা ভৌতিক কর্মকাণ্ড। র্যাগিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীরা যে মানসিক বিপর্যস্ততার মধ্যে পড়ে যায়, এমনকি আত্মহত্যাও করে ফেলতে পারে। এক মেডিকেল কলেজে এমন দুঃসহ পরিস্থিতিই এই সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারে তুলে আনা হয়েছে।
প্রওয়াল রমণ পরিচালনায় এ সিনেমায় অভিনয় করেছেন ইমাদ শাহ, নিশিকান্ত কামাত,রাজভীর আরোরা।
হোয়াই চিট ইন্ডিয়া (২০১৯)
সৌমিক সেন পরিচালিত এ সিনেমা তুলে আনা হয়েছে ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার অন্ধকার এক জগতের কথা। পরীক্ষার চাপ, সেই সঙ্গে পরীক্ষায় পাশ করে ভালো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া ও ভালো রেজাল্ট করতে অসদুপায় অবলম্বনের চিত্র দেখানো হয়েছে এতে। যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে কোটি কোটি টাকা লেনদেন ও নানা অপরাধকর্ম। সিনেমাটিতে মূল চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছেন ইমরান হাশমি।
হিন্দি মিডিয়াম (২০১৭)
ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে এমন হাস্যরসাত্মক সিনেমা আর হয়নি বলতে গেলে। সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করাতে ধনপতি বাবা-মা চলে যান বস্তিতে থাকতে। নামীদামি স্কুলে সন্তানকে ভর্তি করাতে উচ্চবিত্তদের মধ্যে যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা এটি তুলে ধরতে এ সিনেমার জুড়ি নেই। বহুল প্রশংসিত অল্প বাজেটের এ সিনেমার এবার সিক্যুয়াল নির্মিত হচ্ছে।
সাকেত চৌধুরী পরিচালিত সিনেমাটিতে অভিনয় করেন ইরফান খান এবং সাবা কামার।