সড়কে দুর্ঘটনার জন্য বাসচালকের শাস্তি হলে রেললাইনে মৃত্যুর জন্য ট্রেনচালকের শাস্তি কেন হয় না বলে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক মন্ত্রী ও পরিবহন শ্রমিক নেতা শাজাহান খান। এ সময় তিনি সড়কে পথচারীদের অসচেতনতার দিকও তুলে ধরেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবে রোববার ‘সড়ক দুর্ঘটনা রোধে করণীয় শীর্ষক’ এক মতবিনিময় সভায় শাজাহান খান এসব বলেন।
দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য যাত্রী, পথচারী, ড্রাইভার সবাইকে সচেতন হতে হবে উল্লেখ করে সভায় তিনি বলেন, দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য যাত্রী, পথচারী, ড্রাইভার সবাইকে সচেতন হতে হবে। কোনো ঘটনা হলেই আমরা বলি, ঘাতক ড্রাইভার হত্যা করেছে। আসলে কী তাই? পথচারীদের কারণে যে অ্যাক্সিডেন্ট হয়, সেখানে মোবাইলে কথা বলতে বলতে রাস্তা পার হয়, এই ক্ষেত্রে অনেকে মারা যায়। কিন্তু ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেলে তো ড্রাইভারের কোনো শাস্তি হয় না, এই ক্ষেত্রে বাস-ট্রাকের ড্রাইভারের কেন শাস্তি হয়?
তিনি বলেন, আপনারা লক্ষ করুন, মিশুক মুনীর, তারেক মাসুদ যে দুর্ঘটনায় মারা গেছেন, সেটার জন্য আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে (চালককে), সঙ্গে সঙ্গে জরিমানাও করেছে। আর একটি গবেষণা সংস্থা ‘অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ রিপোর্টে’ আমরা দেখলাম এককভাবে ড্রাইভার দায়ী নয়। তাহলে ড্রাইভার এককভাবে সাজা খাটবেন কেন?
পথচারীর অসচেতনতা চালকদের সমস্যায় ফেলে দাবি করে শাজাহান খান বলেন, অসচেতন পথচারীকে বাঁচাতে গেলে ৫০ জন যাত্রী মারা যাবে, ড্রাইভার এখন কোনটা করবে?
সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে প্রধানমন্ত্রী দপ্তর থেকে ‘কো-অর্ডিনেশন সেল’ গঠন করতে হবে বলে মন্তব্য করেন শাজাহান খান।
তিনি বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার সুপারিশ কখনোই বাস্তবায়ন হয়নি, ১৯৮৩ সালে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু যোগাযোগমন্ত্রী থাকাকালে ৮৮টি সুপারিশ দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো আজও বাস্তবায়ন হয়নি। আমরাও ১১১টি সুপারিশ করেছি, কিন্তু এগুলো বাস্তবায়ন করবে কে? আগেও কেউ বাস্তবায়ন করেনি। ভবিষ্যতে করতে হলে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে কো-অর্ডিনেশন সেল গঠন করতে হবে। মন্ত্রণালয়সহ সকলকে পর্যবেক্ষণ করতে এই সেল কাজ করবে।
মতবিনিময় সভায় শাজাহান খানের সংগঠন ‘সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন’ ১৬টি প্রস্তাব তুলে ধরে। এগুলো উপস্থাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী। সড়কে অতিরিক্ত গতিতে চলাচল, বিপজ্জনক ওভার টেকিং, ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করাকে কঠোর হাতে দমন করতে বলা হয় একটি প্রস্তাবে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন আয়োজিত এই সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, বাসদ নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী।