মঙ্গলবার ভোরে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সুবীর নন্দী। তার মৃত্যুতে সংগীত অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সুবীর নন্দীকে কাকা বলে ডাকতেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ফাহমিদা নবী। সুবীর নন্দীর প্রয়াণের পর এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছেন। নিজের স্মৃতিচারণে সুবীর নন্দী সম্পর্কে জানিয়েছেন নানা কিছু। ফাহমিদা নবীর স্ট্যাটাসটি হুবহু পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-
‘‘আরও একটি নক্ষত্রের বিদায়! সুবীর কাকার সঙ্গে আমি আর সুমা ফেরারি বসন্ত ছবিতে গান করেছিলাম।
‘আমি কাটার ভুবনে /আলোর পিয়াসি/সুরের আগুনে পুড়ি/এক নতুন পৃথিবী গড়ি’। ছবিতে বাবা এবং দুই কন্যার কণ্ঠে গানটি ছিল। আব্বার গানের ভক্ত ছিলেন, আব্বাকে অনুসরণ করতেন।তাই অ্যালবাম সাজিয়েছিলেন বাবার ১০ গানটি গান দিয়ে। সেই তখন থেকে কাকার প্রতি ভক্তি ছিল বাবা সন্তানের মতো। মা বলে ডাকতেন তার একমাত্র সন্তান মৌকে যেমন করে ডাকতেন তেমনি করে ভালোবাসতেন আমাদেরও। কাকাকে কখনো না বলতে শুনিনি।কিছু আবদার করলে বলতেন আচ্ছা! আমার উপস্থাপনায় সুরের আয়নার প্রথম পর্ব কাকা করেছিলেন। সেই পর্ব করতে গিয়ে কাকাকে নানান কথা বলতে গিয়ে বলেছিলাম-কাকা একটা ইচ্ছার কথা বলেন…একটু আবেগ ভরা কণ্ঠে বলেছিলেন....‘আমার শেষ ইচ্ছা, আমার মৃত্যুর পর কেউ যেন না কাঁদে, আমি চাই আমার শবদেহের পাশে সবাই যেন আমাকে গান শোনায়’
সংগীত পাগল মানুষটি গান গান করেই কাঁদিয়ে চির বিদায় নিলেন!শুধু গান গাইলেই শিল্পী হয়ে মানুষের মনে জায়গা করা যায় না।বিনয়ী,ধৈর্যশীল, রুচিশীল এবং নিরহংকার হতে হয়। সুবীর কাকা তাই ছিলেন।একজন প্রকৃত শিল্পী।তাইতো আজ তার ভক্তরা কাঁদছেন!
কাকা-আপনার গান বাঁচিয়ে রাখবে আপনাকে।
সুবীর নন্দী কাকার পরিবারের সঙ্গে আমরাও সমব্যথিত তার এই অকাল মৃত্যুতে! অত্যন্ত প্রিয় বিনয়ী শিল্পী'র প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করছি। যেখানেই থাকুন শান্তিতে থাকুন।’’
উল্লেখ্য, ৬৬ বছর বয়সী সুবীর নন্দী দীর্ঘদিন ধরে কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন। নিয়মিতভাবে তার ডায়ালাইসিস করতে হচ্ছিল। এর ভেতর ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও একবার হার্ট অ্যাটাক হয় তার। সিঙ্গাপুরে নেওয়ার পরও হয়।
সংগীত অঙ্গনে চার দশকের ক্যারিয়ারে আড়াই হাজারের বেশি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন এই শিল্পী। সংগীতে অবদানের জন্য চলতি বছরেই একুশে পদকে ভূষিত হন।
সুবীর নন্দী ১৯৫৩ সালের ১৯ নভেম্বর হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার নন্দীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
বেতার, টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্রের প্লেব্যাকে তার অসংখ্য জনপ্রিয় গান রয়েছে। চলচ্চিত্রে প্লেব্যাকের জন্য চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন তিনি।