প্রথম রোজায় গতকাল রাজধানীর বেশিরভাগ সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। দুপুরের পর ঘরমুখো মানুষের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয় ট্রাফিক পুলিশকে। গুলিস্তান এলাকায় হকারদের অবরোধে সাড়ে ছয় ঘণ্টা বন্ধ থাকে সড়ক। ফলে সমগ্র রাজধানীতেই ছড়িয়ে পড়ে এর প্রভাব। সকালের দিকে কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও দুপুরের পর থেকে সিগন্যালে লম্বা হতে থাকে গণপরিবহনের লাইন। ট্রাফিক পুলিশ বলছে, প্রথম রমজানে পরিবারের সঙ্গে ইফতার করতে যাওয়া ঘরমুখো মানুষের চাপেই এ যানজট। এ ছাড়া গুলিস্তান এলাকায় হকারদের আন্দোলনে সড়ক বন্ধ থাকায় আশপাশের সড়কেও যানজট সৃষ্টি হয়।
ট্রাফিক পূর্ব বিভাগের ডিসি ড. কামরুজ্জামান বলেন, ‘রমজান উপলক্ষে বেলা ৩টায় অফিস ছুটি হয়। ফলে প্রথম রমজানেই দুপুরের পর রাস্তায় গাড়ির চাপ বেড়ে যায়। এ ছাড়া গুলিস্তানে রাস্তা বন্ধ করে হকারদের বিক্ষোভের কারণেও যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে হকাররা বিকেলে রাস্তা ছেড়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।’
ট্রাফিক দক্ষিণের ডিসি এসএম মুরাদ আলী বলেন, ‘রমজান উপলক্ষে সবসময় আমাদের বিশেষ ব্যবস্থা থাকে। বিভিন্ন মার্কেট, বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাটে আলাদা ব্যবস্থা থাকে। যাতে যাত্রীরা ভালোভাবে যাতায়াত করতে পারে। মার্কেটগুলোতে যেন সবাই কেনাকাটা স্বাচ্ছন্দ্যে করতে পারে এ জন্য আলাদা ব্যবস্থাপনা থাকে।’ তিনি বলেন, ‘শপিংমলের সামনের রাস্তায় গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যাপারে শপিংমল কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তাদের বলেছি, পার্কিং এলাকায় গাড়ি রাখার ব্যবস্থা করতে এবং শপিংমলের সামনে রাস্তায় যেন কেউ গাড়ি না রাখে।’
রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, কলাবাগান থেকে নিউমার্কেট এলাকায় দুপুরের পর থেকে তীব্র যানজট। সড়কে অতিরিক্ত প্রাইভেটকার ও যত্রতত্র পার্কিং এ এলাকায় যানজটের নেপথ্যে বলে মনে করছেন পথচারীরা। মামুন নামে একজন বলেন, ‘এ সড়কের যানজটের প্রধান কারণ প্রাইভেট কারের বিশৃঙ্খলা। তারা ইচ্ছেমতো রাস্তার পাশে পার্কিং ও যানজটের সৃষ্টি করে।’
মোহম্মদপুর থেকে আসাদগেট, ফার্মগেট, বাংলামোটর ও শাহবাগ এলাকায়ও ছিল তীব্র যানজট। ফার্মগেট এলাকায় মেট্রো রেলের নির্মাণকাজের জন্য এ সড়কে এমনিতেই যানজট লেগে থাকে। এরপর প্রথম রোজায় ঘরমুখো মানুষের চাপে তা আরও ভয়বহ আকার ধারণ করে। ঘণ্টা পর ঘণ্টা ধরে জ্যামে বসে কাটাতে হয় যাত্রীদের। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কবির হোসেন বলেন, ‘বিকেলে মোহাম্মদপুর থেকে বাংলামোটর আসতে তীব্র জ্যামে পড়তে হয়েছে। থেমে থেমে বাস চলে। গরমে বাসের মধ্যে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।’
সকালে ফুটপাতে ব্যবসা করতে দেওয়ার দাবিতে গুলিস্তানে হকাররা সড়ক অবরোধ করে। এতে দুর্ভোগে পড়েন সদরঘাট, রায়সাহেব বাজার, পল্টন, মৎস্যভবন ও শাহবাগ এলাকায় পথচারীরা। বিকেলে অবরোধ তুলে নিলে স্বাভাবিক হতে শুরু করে ওইসব এলাকার সড়ক। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী রশিদ আল রুহানী বলেন, ‘রায়সাহেব বাজার থেকে বাসে প্রেস ক্লাব আসতে তিন ঘণ্টা লেগেছে। অনেকেই হেঁটে কর্মস্থলে গেছেন।’
ট্রাফিক দক্ষিণের শাহবাগ জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) মাহমুদ খান বলেন, ‘হকারদের আন্দোলনের কারণে এ যানজট। তবে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। আন্তরিকতা থাকার পরও রাস্তা বন্ধ থাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থা দুপুরের পর থেকে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।’