শুধু জিতলেই হতো না। করতে হতো অসাধ্য সাধন; গড়তে হতো ইতিহাস। নিজেদের মাঠে তাই করল লিভারপুল, যা অনেকের কল্পনাতেও ছিল না। অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালের ফিরতি লেগে বার্সেলোনাকে কাঁদিয়ে খাদের কিনারা থেকে ফাইনালে উঠল ইয়ুর্গেন ক্লপের দল।
অ্যানফিল্ডে মঙ্গলবার রাতে প্রতিযোগিতাটির শেষ চারের ফিরতি লেগের লড়াইয়ে লা লিগা চ্যাম্পিয়নদের ৪-০ গোলে হারায় লিভারপুল। দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৩ টানা দ্বিতীয় মৌসুমে ক্লাব পর্যায়ে ইউরোপ সেরা প্রতিযোগিতার ফাইনালে গেল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটি।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বর্তমান ফরম্যাটে প্রথমবারের মতো কোনো দল সেমি-ফাইনালে তিন গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও ফাইনালে যাওয়ার নজির গড়ল লিভারপুল। প্রতিযোগিতার আগের সংস্করণে তথা ইউরোপিয়ান কাপে এমন ঘটনা আছে দুইবার।
এর মধ্যে ১৯৭১ সালে শেষ চারের প্রথম লেগে সার্বিয়ান ক্লাব রেড স্টার বেলগ্রেডের ৪-১ ব্যবধানে হারলেও ফিরতি লেগে ৩-০ ব্যবধানে জিতে অ্যাওয়ে গোলের সুবিধা নিয়ে ফাইনালে উঠেছিল গ্রিক ক্লাব পানাথিনাইকোস। আর ১৯৮৬ বার্সেলোনাই গড়েছিল এমন কীর্তি। সুইডেনের ক্লাব গুটেনবার্গের মাঠ থেকে ৩-০ গোলের হার নিয়ে ফেরে বার্সেলোনা। ফিরতি লেগে ৩-০ গোলের জয় পেয়ে যায় কাতালান ক্লাবটি। শেষ পর্যন্ত ম্যাট টাইব্রেকারে গড়ালে ৫-৪ গোলের অগ্রগামিতায় ফাইনালে উঠে বার্সেলোনা।
নিজেদের মাঠে মঙ্গলবার নিজেদের ইতিহাসে অন্যতম সেরা খেলাটা খেলেছে লিভারপুল। চোটের কারণে দলে ছিলেন দলের অন্যতম সেরা দুই খেলোয়াড় মোহামেদ সালাহ ও রবের্তো ফিরমিনো। তাদের অভাব ভুলে হাতে থাকা সম্বল নিয়েই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে লড়ে ফল পেল অল রেড নামের ক্লাবটি।
খেলা শুরুর নবম মিনিটেই বার্সেলোনা শিবির কাঁপিয়ে দেয় লিভারপুল। বার্সেলোনার বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে পরাস্ত করে গোলের উদ্দেশ্যে শট নেন জর্ডান হেন্ডারসন। ইংলিশ মিডফিল্ডারের শটটি ঝাঁপিয়ে ঠেকালেও গোলপোস্ট বিদদমুক্ত করতে পারেননি গোলরক্ষক মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেন। গোলমুখে ফাঁকায় বল পেয়ে ডান পায়ের নিচু শটে জাল খুজে নেন বেলজিয়ান ফরোয়ার্ড ডিভোক ওরিগি।
বরাবরের মতো বল দখলে আধিপত্য দেখায় বার্সেলোনা। কিন্তু আক্রমণে যেন এদিন ছন্নছাড়া দলটির তারকা দুই খেলোয়াড় লিওনেল মেসি ও লুইস সুয়ারেস। ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যেতে হয় তাদের।
দ্বিতীয়ার্ধে যেন আর ফুঁসে ওঠে লিভারপুলের আক্রমণভাগ। দুই মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করেন দলটির ডাচ মিডফিল্ডার জর্জিনিয়ো ভেইনালডাম। তাতে দুই লেগ মিলিয়ে সেমি-ফাইনালে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-৩।
এমন অবস্থায় লড়াইয়ে পার্থক্য গড়ে দেন ওরিগি। নিচু করে নেওয়া ট্রেন্ট অ্যালেকজান্ডার-আর্নল্ডের কর্নার থেকে বল পেয়ে ডান পায়ের কোনাকুনি শটে জালে বল জড়ান বেলজিয়ান স্ট্রাইকার ওরিগি। তাতে উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো অ্যানফিল্ড। বার্সেলোনা শিবিরে নেমে আসে রাজ্যের নীরবতা।