এটিএম শামসুজ্জামানের শারীরিক অবস্থার অবনতি

রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন অভিনয়শিল্পী এটিএম শামসুজ্জামানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। এই অবস্থায় পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন এটিএম শামসুজ্জামানের ছোট ভাই সালেহ জামান।

বুধবার তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার ভাইয়ের অবস্থা ভালো না। এখন আমরা ঠিক বুঝতে পারছি না কী করব। চিকিৎসকেরা তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন। আমরা সবার কাছে দোয়া চাই।’

গত ২৬ এপ্রিল শ্বাসকষ্ট, পেট ফাঁপা ও বমির সমস্যার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এটিএম শামসুজ্জামানকে। পরদিন অস্ত্রোপচার করা হয় তার। অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউ থেকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। এরপর অবস্থার উন্নতি হলে গত শুক্রবার লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়া হয়। কিন্তু ফের অবস্থার অবনতি হলে সোমবার আবার লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয় ৭৭ বছর বয়সী এ অভিনেতাকে।

এটিএম শামসুজ্জামান নোয়াখালীর দৌলতপুরে নানাবাড়িতে ১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর ‘বিষকন্যা’ চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। প্রথম কাহিনি ও চিত্রনাট্য লিখেছেন ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রের জন্য। পরিচালক ছিলেন নারায়ণ ঘোষ মিতা। এ ছবির মাধ্যমেই অভিনেতা ফারুক ও প্রবীর মিত্রের চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়। এ পর্যন্ত শতাধিক চিত্রনাট্য ও কাহিনি লিখেছেন এটিএম শামসুজ্জামান। পরিচালনা করেছেন ‘এবাদত’ নামের একটি চলচ্চিত্র।

১৯৬৫ সালের দিকে সিনেমায় প্রথম অভিনয় করেন। তবে মাইলফলক ধরা হয় ১৯৭৬ সালে আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণি’ চলচ্চিত্রে খলনায়ক চরিত্রটি। কাজী হায়াতের ‘দায়ী কে?’ ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা ও রেদওয়ান রনির ‘চোরাবালি’র জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে পার্শ্বচরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার সম্মাননা অর্জন করেন তিনি। শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০১৫ সালে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একুশে পদক পান। এটিএম শামসুজ্জামানকে সর্বশেষ সিনেমার পর্দায় অভিনয় করতে দেখা গেছে নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু পরিচালিত ‘আলফা’ চলচ্চিত্রে।