মাংসের বাজার লাগামহীন

রোজায় নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজধানীতে বেড়েছে সব ধরনের মাংসের দর। সিটি করপোরেশন-নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দামে মাংস বিক্রি করছেন। দেশি বা ভারতীয় গরুর মাংসের দামেও নেই কোনো ফারাক। ক্রেতাদের অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের সঠিক তদারকির অভাবে মানুষকে জিম্মি করে বাড়তি দাম নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। আবার অনেক দোকানেই নেই মূল্যতালিকা। ব্যবসায়ীদের যুক্তি, বাড়তি দামে গরু কিনতে হচ্ছে, তাই মাংসের দামও বেশি।

প্রতিবছরের মতো এবারও রোজা শুরু হওয়ার আগে গত ৬ মে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন মাংস ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে গত বছরের চেয়ে ৭৫ টাকা বাড়িয়ে দেশি গরুর মাংসের কেজি ৫২৫ টাকা নির্ধারণ করে দেন। আর আমদানি করা ভারতীয় গরুর মাংস ৫০০ টাকা, মহিষের মাংস ৪৮০ টাকা, খাসির মাংস ৭৫০ টাকা ও ভেড়ার মাংসের দর ৬৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। গত রোজায় দেশি গরুর মাংস ৪৫০ টাকা, আমদানি করা গরুর মাংস ৪২০ টাকা, মহিষের মাংস ৪২০ টাকা, খাসির মাংস ৭২০ টাকা এবং ভেড়ার মাংসের দর ছিল ৬৫০ টাকা।

সরেজমিনে গতকাল বুধবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা দরে। তবে খাসির মাংস নির্ধারিত ৭৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা যায়। মোহাম্মদপুর টাউন হল কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী মো. সোহেল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা জেনেছি, দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমাদের কাছে কোনো তালিকা আসেনি। তালিকা এলে তখন দেখব।’ তিনি বলেন, ‘আমার দোকানে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫৫০ টাকায়।’ বাড়তি দামের বিষয়ে জানতে চাইলে ক্ষোভ প্রকাশ করে এই ব্যবসায়ী বলেন, ‘সিটি করপোরেশন শুধু আমরা যারা দোকানে বসি তাদের সঙ্গে কথা বলে। কিন্তু যারা রাস্তায় ভাগা দিয়ে মাংস বিক্রি করে, তাদের কিছু বলতে পারে না। সেসব জায়গায় ৬০০ টাকার কমে কোনো মাংসই নাই।’ ৬০০ টাকা কেজিতে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন টাউন হল কাঁচাবাজারে আসা তৌফিকুল ইসলাম। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই বাজারে রোজা শুরুর আগে থেকেই ৬০০ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে। আজও একই দাম। সিটি করপোরেশনের কোনো মূল্যতালিকা তো চোখে পড়েনি।’

সিটি করপোরেশনের বেঁধে দেওয়া দামে মাংস বিক্রি করছেন বলে দেশ রূপান্তরের কাছে দাবি করেছেন কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী শাহেদ। তিনি বলেন, ‘আমি অনেক আগে থেকেই সিটি করপোরেশনের বেঁধে দেওয়া দামে মাংস বিক্রি করছি। তবে তারা যে দাম নির্ধারণ করেছে তাতে আমাদের চালান থাকে না।’

শাহজাহানপুরের ‘খলিল গোস্ত বিতানে’ গিয়ে সিটি করপোরেশন-নির্ধারিত মূল্যতালিকা দেখা যায়। তবে তালিকায় গরুর মাংসের কেজি ৫২৫ টাকা লেখা থাকলেও ৫৫০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, মূল্যতালিকা নামে মাত্র। দোকানিরা তাদের মনমতো দাম নিচ্ছেন।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে এক ক্রেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মাংস তো এখন কেনা দায়, কে শোনে কার কথা। সিটি করপোরেশন তো খালি মূল্যতালিকা দিয়ে খালাস। আর এগুলো দেশি না বিদেশি গরুর মাংস তা-ও তো চেনা যায় না, মাংসের গায়ে নেই কোনো সিল।’

মাংস বেশি দামে বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলম বলেন, ‘সিটি করপোরেশন-নির্ধারিত মাংসের দরের বিষয়ে আমরা ব্যবসায়ীদের জানিয়েছি। তারা সেই মূল্যে মাংস বিক্রি করবে বলে আমাদের জানিয়েছে।’ তবে গাবতলী গরুর হাটে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অধিক হারে হাসিল আদায়ের কারণে গরুর দরের ওপর বেশি প্রভাব পড়ছে বলে জানান তিনি।