বাগেরহাটের শরণখোলায় পারিবারিক কলহের জেরে লাকি বেগম নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে স্বামী নুরুল আমিন চৌকিদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার রাতে খুলনার সোনাডাঙা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিহতের স্বামী নুরুল আমিনকে (৩৪) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
নুরুল আমিন চৌকিদার উপজেলার দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের আবদুল চৌকিদারের ছেলে।
বৃহস্পতিবার ভোরে শরণখোলা উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের উত্তর আমড়াগাছিয়া গ্রামের সাতঘর এলাকায় স্ত্রী লাকিকে পিটিয়ে হত্যার পর দুই সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যায় স্বামী নুরুল আমিন।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই নুরুল ইসলাম হাওলাদার তার ভগ্নিপতি নুরুল আমিন চৌকিদারকে আসামি করে শরণখোলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নিহত লাকি বেগম আমড়াগাছিয়া গ্রামের খলিলুর রহমানের মেয়ে। তাদের ঘরে সাত বছর বয়সী জিহাদ নামে একটি ছেলে ও দুই বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে।
পরিবারের বরাত দিয়ে শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মফিজুর রহমান শেখ বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে খুলনার সোনাডাঙা এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের স্বামী নুরুল আমিন চৌকিদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার নুরুল আমিন তার স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তাকে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ওসি বলেন, প্রায় আট বছর আগে শরণখোলা উপজেলার দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের আবদুল হক চৌকিদারের ছেলে নুরুল আমিন চৌকিদারে সঙ্গে একই উপজেলার ভারত প্রবাসী উত্তর আমড়াগাছিয়া গ্রামের খলিলুর রহমানের মেয়ে লাকি বেগমের বিয়ে হয়।
বিয়ের পর ভারতের কেরালা রাজ্যে ভাঙারির ব্যবসা করা খলিলুর রহমান তার মেয়ের জামাই নুরুল আমিনকেও সেখানে নিয়ে যান। এরপর থেকে তার মেয়ের জামাই নুরুল আমিন মাঝে মধ্যে দেশের শরণখোলাতে এসে কিছুদিন থেকে আবার চলে যেতেন। বিয়ের পর থেকে তার মেয়ে জামাইয়ের মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না। বুধবার বিকেলে খলিলের জামাতা নুরুল ভারত থেকে বাড়িতে আসেন।
বৃহস্পতিবার ভোর প্রায় সাড়ে ৪টার দিকে লাকির বড় ভাই নুরুল ইসলাম হাওলাদারের মোবাইল ফোনে তার ভগ্নিপতি নুরুল আমিন ফোন দিয়ে বলে- “তোমার বোনকে পিটিয়ে ফেলে রেখে এসেছি এবং আমার দুই সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছি। তুমি বাড়িতে গিয়ে তোমার বোনকে দেখ। যদি সে বেঁচে থাকে, তাহলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করাও’।
একথা বলে ফোনের লাইনটি কেটে দিয়ে ফোনসেটটি বন্ধ করে দেন নুরুল আমিন। নিহত লাকির গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানান ওসি।