মাকে নিয়ে প্রত্যেক সন্তানেরই রয়েছে আলাদা আলাদা গল্প। মা দিবসে সেসব গল্প উঠে আসে ফেসবুকেসহ নানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। আর দশজনের মতো বাংলাদেশের তারকারাও মাকে নিয়ে নিজেদের গল্প বলেন। বলবেনই বা না কেন, মায়ের চেয়ে আপন আর কে? অভিনেত্রী সোহানা সাবা বললেন মায়ের ত্যাগের গল্প। সে গল্প ভালোবাসারও। সাবার স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো-
‘‘আমি আর আমার ভাই হওয়ার পর,মামনি তার কাজ-ক্যারিয়ার ছেড়ে দিয়েছিল! নাচ গান আর অভিনয়ের ক্যারিয়ার! আমাকে ৪ বছর থেকে ক্ল্যাসিক্যাল ড্যান্স শিখিয়েছে, ভাইকে তবলা। এই আশায়, আমার পেছনে জীবনের বেশির ভাগ সময় নষ্ট করেছে যে আমাকে কিছু বানাবে!
আমাদেরও অনেক সময় নষ্ট করেছে ছোটবেলা থেকে! সকালে ঘুম থেকে উঠিয়েই, ছেড়ে দিত রবীন্দ্রসংগীত! স্কুল থেকে আসার সময় কিনে দিত গল্পের বই! উইকেন্ডে নাচের ক্লাস, নাচের রিহার্সাল,কোচিং তো লেগেই থাকত দুজনের। সঙ্গে থাকত মামনি!
রান্নাবান্না আমার মামনি জঘন্য করে ! কিন্তু এই রান্নাবান্না অন্য কেউ করুক..তার কোনো হেল্পিং হ্যান্ড হেল্প করুক..সেটা সে পছন্দ করে না! কিচেনের রাজত্ব তার একার! অন্য কারও না! আমরা সারা জীবন নিজেদের গিনিপিগ হিসেবে মেনে নিয়েছি।
সবার মতো মা টাইপের মা আমাদের নয়! সে আধুনিক! বিন্দাস! সহজ সরল-সামাজিক এবং অনেস্ট! স্কুলে শাস্তি পেয়েছি -কি জীবনে প্রেমে পড়েছি, সবকিছুই তার সঙ্গে শেয়ার করে বড় হয়েছি...
সে কারণে একটা সুবিধা হয়েছে ...আমাদের দুই ভাই বোনের ...আমরা কখনো কিছু লুকাতে শেখিনি..মিথ্যা বলতে শিখিনি..ভয় পেতে শিখিনি...
অবশ্য পিচ্চি বয়সে লুকিয়ে বিয়ে করে বড় অপরাধ করেছিলাম..! আজ আবার “ব্যাক টু প্যাভিলিয়ন” হয়ে আবারও তাকে জ্বালিয়ে যাচ্ছি..! সঙ্গে আমার ছেলেও যোগ দিয়েছে…!
সে জীবনেও আমাকে বার্থডে তে উইশ করেনি..লজ্জা পায়..! আমিও আজকে তাকে উইশ করিনি..কাটাকাটি! ফেসবুকে আমি কিছু পোস্ট করার ১০মিনিটের মাথায় সে লাইক দেয়..আজকেও এই পোস্টটা পড়ে নিবে নিজ দ্বায়িত্বে..অথবা লজ্জা পেয়ে চেপে যাবে.. যাক গিয়ে...পৃথিবীতে তো সব মা-ই মা! আমিও তো মা!’’