উইকিলিকসের সহপ্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে পুরোনো ধর্ষণ মামলার নতুন করে তদন্ত শুরু করছে সুইডেন। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির পাবলিক প্রসিকিউশনের ডেপুটি ডিরেক্টর এ ঘোষণা দেন।
গার্ডিয়ান জানায়, সোমবার পাবলিক প্রসিকিউশনের ডেপুটি ডিরেক্টর ইভা-মারিয়া পারসন সাংবাদিকদের বলেন, “অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলাটির পুনরায় তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি।”
লন্ডন থেকে অ্যাসাঞ্জকে সুইডেনে নিয়ে আসা হবে বলেও তিনি জানান। তদন্ত কর্মকর্তারা এ নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।
ইভা-মারিয়া বলেন, “মামলাটির প্রাথমিক তদন্ত পর্যালোচনা দেখে বুঝেছি, ধর্ষণের ঘটনাটিতে অ্যাসাঞ্জের জড়িত থাকতে পারেন। ফলে নতুন করে এ মামলার তদন্ত হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।”
৪৭ বছর বয়সী অ্যাসাঞ্জকে ১১ এপ্রিল লন্ডনে ইকুয়েডরের দূতাবাসে গ্রেপ্তার করা হয়। সাত বছর ধরে সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয়ে ছিলেন তিনি।
২০১০ সালে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। স্টকহোমে উইকিলিকসের একটি সভার পর ওই ঘটনা ঘটে। অ্যাসাঞ্জ সব সময় ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, দুজনের সম্মতিতে সেদিন যৌন সম্পর্ক হয়।
ইকুয়েডরের দূতাবাসে থাকায় সুইডেন সরকার ওই মামলার তদন্তকাজ চালিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়। ২০১৭ সালে থেমে যায় মামলাটি।
অলাভজনক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান উইকিলিকস যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের কোটি কোটি সংবেদনশীল ও গোপন নথি ফাঁস করে বিশ্বে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের রোষানলে পড়েন উইকিলিকসের প্রধান অ্যাসাঞ্জ। গ্রেপ্তার ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ ঠেকাতে ২০১২ সালে লন্ডনে ইকুয়েডরের দূতাবাসে আশ্রয় নেন তিনি।