সমুদ্রের গভীরতম অঞ্চলেও পৌঁছে গেছে প্লাস্টিক বর্জ্য

সম্প্রতি এক আমেরিকান সাগরতল অনুসন্ধানকারী হতাশার খবর দিয়েছেন।  যা পৃথিবীর পরিবেশের জন্য অশনিসংকেতও। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে গভীর সামুদ্রিক খাতে গিয়েও মিলেছে প্লাস্টিক আবর্জনা।

সিএনএনের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ভিক্টর ভেস্কোভা নামের ওই ব্যক্তি সমুদ্রের ১০ হাজার ৯২৭ মিটার (৩৫ হাজার ৮৫৩ ফুট) গভীরে চ্যালেঞ্জার ডিপের তলদেশে যেতে সক্ষম হয়েছেন। এটি প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা ট্রেঞ্চের দক্ষিণ প্রান্তের শেষ অংশ। যাকে ধরা হচ্ছে পানির তলের সবচেয়ে গভীর অঞ্চল। 

১১ কি.মি. বা ৭ মাইল সমুদ্র তলে তিনি একাধিকবার নেমেছেন। এর মধ্যে একটির স্থায়ীত্ব ছিল ৪ ঘণ্টা। এর মাধ্যমে ভেস্কোভা এককের ডাইভের ক্ষেত্রে ইতিহাস গড়েছেন। এর আগের রেকর্ডটি ছিল ২০১২ সালে ‘টাইটানিক’ সিনেমার পরিচালক জেমস ক্যামেরনের।

এই অভিযানে ভেস্কোভা ৪টি নতুন প্রজাতির সূত্র পেয়েছেন। যার সঙ্গে পৃথিবীতে প্রাণের আবির্ভাবের যোগ রয়েছে। তবে সবচেয়ে খারাপ বিষয়টি হলো পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর স্থানে গিয়েও মানবসৃষ্ট প্লাস্টিক বর্জ্যের দেখা পেলেন। যার মধ্যে আছে একটি প্লাস্টিক ব্যাগ ও ক্যানডির মোড়ক।

অভিযানটি পরিচালিত হয় চলতি মাসের প্রথম দিনে। আর এই সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয় সোমবার।

৫৩ বছরের ভেস্কোভা এক সময় নৌবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। চ্যালেঞ্জার ডিপে ডাইভ প্রসঙ্গে সিএনএনকে তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি সর্বোচ্চ সীমার কাছে যাওয়া মানুষের স্বাভাবিক প্রবণতা।”

ভেস্কোভার মতে, এটা মানব প্রকৃতি বিস্ময়কর অংশ। যা প্রজাতি হিসেবে আমাদের বর্তমান অবস্থান নিয়ে এসেছে।

‘দ্য লিমিটিং ফ্যাক্টর’ নামের প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। যার আওতায় সমুদ্রের পাঁচটি গভীর অংশে সোনার ম্যাপিং সম্পন্ন হবে। যা ডিসকভারি চ্যানেলে ‘ফাইভ ডিপস এক্সপেডিশন’ নামে প্রচার হবে।

এর আগে আটলান্টিক মহাসাগরের পুর্তোরিকো ট্রেঞ্চ, দক্ষিণ আটলান্টিকের সাউথ স্যান্ডউইচ ট্রেঞ্চ ও ভারতীয় মহাসাগরের জাভা ট্রেঞ্চে সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

পরবর্তী গন্তব্য এখনো অনাবিষ্কৃত আর্কটিক মহাসাগরের মলয় ডিপ। এ অভিযান সম্পন্ন হবে চলতি বছরের আগস্টে।