‘রাণী রাসমণি’তে বিদ্যাসাগরের চুল নিয়ে জটিলতা

কলকাতার ‘করুণাময়ী রাণী রাসমণি’ ধারাবাহিকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের লুকস নিয়ে তৈরি হয় জটিলতা। কারণ এই বরণীয় ব্যক্তিত্বের হেয়ার স্টাইল ছিল আলাদা।

বিদ্যাসাগর চরিত্রের সৌরভ দাস বলেন, “প্রথমে তো লুকস সেট করতে গিয়ে কিছুতেই ঠিকঠাক হচ্ছে না। সে জন্য বিদ্যাসাগরকে নিয়ে প্রোমোও অন এয়ার করা যাচ্ছিল না। তখন ঠিক হলো প্রস্থেটিক মেকআপ করা হবে। এ রকম অদ্ভুতভাবে চুল ন্যাড়া করার কথা ভাবতে পারছিল না কেউ, বিশেষ করে সিরিয়ালের জন্য বলেই হয়তো।”

বিদ্যাসাগরকে ‘যশুরে কই’ বলা হতো অর্থাৎ মাথাটা বড়। তিনি ছিলেন জন্ম টেকো। বাবা ঠাকুরদাসেরও চুল খুব কম ছিল। বিদ্যাসাগরের কপাল অতি প্রশস্ত ছিল, ব্রহ্মতালুর আশপাশ অব্দি চুল ছিল, বাকিটা ফাঁকা।

এ নিয়ে সৌরভ আরও বলেন, “সব থেকে বড় কথা চরিত্রর ফিলটা আমার আসছে না... তার পর সবাইকে বললাম, ঠিক আছে চল, আমি ন্যাড়া হব... কিছু নর্মস থাকে, কনট্রাকচুয়াল ব্যাপার থাকে। সেগুলো হয়ে যাওয়ার পর ন্যাড়া হয়ে গেলাম।”

এই ধারাবাহিকের মেকআপশিল্পীদের অন্যতম সাবর্ণী দাস বলেন, “সৌরভ ওর চুল সেভ করাতে রাজি হওয়ায় বিদ্যাসাগরের কাছাকাছি একটা লুকস আনতে আমাদের একটু সুবিধা হলো। উইগ বা প্রস্থেটিক মেকআপ ব্যবহার করতে হলো না। সিরিয়ালে প্রস্থেটিক মেকআপের জন্য এত সময় ব্যয় করাটাও ঝামেলার ছিল। আর বিদ্যাসাগরের লুকস নিয়ে কী-ই বা বলার আছে... একটা ধুতি, একটা চাদর, মাথায় একটা টিকি দেওয়া হয়েছে, আর জুতোর নামই ‘বিদ্যাসাগরী জুতো’... এইটুকুই তো।”