ঢাকাকে বাসযোগ্য করার তাগিদ হাইকোর্টের

মশা, বায়ুদূষণ ও জলাবদ্ধতা রোধে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ব্যর্থতা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছে হাইকোর্ট। পাশাপাশি ঢাকাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য করতে দুই সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে (সিইও) আদেশ দিয়েছে আদালত। হাইকোর্ট বলেছে, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছরেও ঢাকাকে একটি মানসম্মত নগরী হিসেবে গড়ে তোলা যায়নি।’

ঢাকায় বায়ুদূষণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপের বিষয়ে গতকাল বুধবার ওই দুই কর্মকর্তার ব্যাখ্যার ওপর শুনানিকালে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের বেঞ্চ থেকে এ মৌখিক আদেশ আসে। তবে বায়ুদূষণ রোধে দুই সিটি করপোরেশনের ব্যাখ্যায় অসন্তোষ জানিয়ে এজন্য এক মাস সময় দিয়েছে আদালত। গত ৫ মে দুই সিইওকে তলব করেছিল হাইকোর্ট। গতকাল ঢাকা উত্তরের সিইও মো. আবদুল হাই ও দক্ষিণের সিইও মো. মোস্তাফিজুর রহমান হাইকোর্টে আসেন। আদালত তাদের বক্তব্য শোনেন। এ সময় তাদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী নুরুন্নাহার নূপুর। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। আর রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। 

শুনানিতে দুই সিটির সিইও ঢাকায় বায়ুদূষণ রোধে নেওয়া পদক্ষেপগুলো প্রতিবেদন আকারে আদালত উপস্থাপন করেন। তারা জানান, ঢাকায় বড় বড় উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় বায়ুদূষণ রোধে বেগ পেতে হচ্ছে। এ বিষয়ে তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।  ঢাকায় নাগরিক সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে আদালত বলেন, ‘ঢাকায় নাগরিক সুবিধা নিয়ে আপনাদের অবহেলা রয়েছে। এগুলো আপনারা নিশ্চিত করবেন। পয়োনিষ্কাশন, জলাবদ্ধতা ও মশা নিধনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। সামনে বর্ষা মৌসুম আসছে। একটু বৃষ্টি হলেই হাঁটুপানি উঠে যায়। মশার উৎপাতও বেড়ে যায়। মশার উৎপাত কমাতে পদক্ষেপ নিন। এখনই যদি ব্যবস্থা না নেন, তাহলে ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়ার প্রকোপ বাড়বে। তখন কীভাবে এর প্রতিকার করবেন, ব্যবস্থা নিন। বাংলাদেশে অনেক বিদেশি বসবাস করেন, অন্য দেশের দূতাবাসও রয়েছে। বিদেশিরা এখানে বিনিয়োগ করেন। তাই এ বিষয়ে আরও কর্মমুখী হতে হবে।’

আদালত বলেন, ‘উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজের সময় আপনাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দেখা যায় কেন? বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় খোঁড়াখুঁড়ি করা হয়। আপনারা সমন্বিতভাবে কাজ করবেন।’

দুই সিইওর উদ্দেশে আদালত বলেন, ‘আপনাদের মনে রাখতে হবে, জনগণের টাকায় আপনাদের বেতন, সবকিছু হয়। সেজন্য আপনাদের আইন আদালত মানতে হবে। জনগণ যেভাবে ট্যাক্স দিচ্ছেন সে অনুপাতে তারা নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পান না। এটি পাওয়া তাদের অধিকার।’  ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে সংগঠনের সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ গত ২৭ জানুয়ারি একটি রিট আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের একই বেঞ্চ গত ২৮ জানুয়ারি অন্তর্বর্তীকালীন কয়েকটি নির্দেশনা দেয়।

তিন দফা নির্দেশনার মধ্যে ছিল রাজধানীর যেসব এলাকায় উন্নয়ন ও সংস্কারমূলক কাজ চলছে সেখানে দিনে দুবার পানি ছিটানো, নির্মাণাধীন কাজের জায়গা ঢেকে রাখা এবং এসব বিষয় বাস্তবায়ন করার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে সপ্তাহে দুই দিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয় আদেশে। তবে আদেশ পুরোপুরি প্রতিপালিত না হওয়ায় এর আগেও একাধিকবার উষ্মা প্রকাশ করেছিল হাইকোর্ট।