খুলনায় পাটকল শ্রমিকদের ধর্মঘট দিনে লোকসান কোটি টাকা

শ্রমিক ধর্মঘটের ফলে খুলনার পাটকলে লোকসানের বোঝা ভারী হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিদিন ক্ষতি হচ্ছে প্রায় কোটি টাকা। এভাবে চলতে থাকলে পাটশিল্পে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিজেএমসির হিসেবে, চলতি বছরে খুলনাঞ্চলের ৯টি পাটকলে দৈনিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ২৭২ মেট্রিক টন। সেখানে উৎপাদন ক্ষমতা ১০০ দশমিক ২৯ মেট্রিক টন; যার বাজার মূল্য ৮০ লাখ টাকা থেকে ৮৫ লাখ টাকা। খুলনায় গত ১১ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় প্রায় ১০ কোটি টাকার পাটপণ্য উৎপাদন হয়নি।

বকেয়া মজুরি পরিশোধ ও মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ৯ দফা দাবিতে পাটকল শ্রমিক লীগ ও সিবিএ ও নন-সিবিএর ডাকে ১৩ মে থেকে সারা দেশে পাটকলে ধর্মঘট চলছে। আর আগেই ৫ মে থেকে খুলনা অঞ্চলের ৩৩ হাজার শ্রমিক মিলগুলোতে উৎপাদন বন্ধ রেখে সড়ক-রেলপথ অবরোধ এবং রাজপথে ইফতার কর্মসূচি পালন করছে। বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি) খুলনা অঞ্চলের লিয়াজোঁ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ১৯৫২ থেকে ১৯৬৮ সালের মধ্যে খুলনায় ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, খালিশপুর, দৌলতপুর, স্টার, আলিম ও ইস্টার্ন এবং যশোরে জেজেআই ও কার্পেটিং জুটমিল গড়ে ওঠে। প্রতিষ্ঠাকালে এসব পাটকলে স্থাপন করা হয় ৫ হাজার ১১৫টি তাঁত। বর্তমানে পাটকলগুলোতে ৩ হাজার ৬৫০টি তাঁতের বিপরীতে চালু আছে মাত্র ১ হাজার ৮৫৪টি। ৯টি পাটকলে ১৪ হাজার ৫২৫ জন স্থায়ী, ১৮ হাজার অস্থায়ী এবং ৫২২ জন বদলি শ্রমিকসহ ৩৩ হাজার ৪৭ জন শ্রমিক এবং ১ হাজার ১৮৭ জন কর্মচারী রয়েছে। শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের ১২ সপ্তাহের মজুরি ও বেতনসহ  প্রায় ৬৫ কোটি টাকা বকেয়া পড়েছে। এরমধ্যে শুধুমাত্র শ্রমিকদের বকেয়া ৫৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

এদিকে নানা কারণে পাটকলগুলোতে উৎপাদনের সক্ষমতাও কমছে। ২০১৭ সালে প্রতিদিন ৩৭২ মেট্রিক টন পাটজাত পণ্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে গড়ে উৎপাদন হতো ২২৮ মেট্রিক টন। গত বছর ২৭২ টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে উৎপাদন হয়েছে ১৮৩ টন। একই লক্ষ্যমাত্রায় বর্তমানে উৎপাদন হয় ১০০ টন পণ্য। আর মিলগুলোতে প্রায় ৩২৫ কোটি টাকার পাটজাত পণ্য মজুদ রয়েছে।

পাটকল শ্রমিক লীগের খুলনা-যশোর অঞ্চলের আহ্বায়ক মো. মুরাদ হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে পাটশিল্প নিয়ে কিছু আমলা ও পুঁজিবাদী ব্যবসায়ী ষড়যন্ত্র করে চলেছে। তারা লাভবান এই শিল্পকে নানাভাবে অলাভজনক করতে চায়। তারপর এটি বেসরকারিভাবে তাদের দখলে নিয়ে লুটে-পুটে খেতে চায়। সেই কারণে বকেয়া বেতন না দিয়ে নাটক করছে। আর না খেয়ে মরছি শ্রমিকরা।’