রোজায় অনেক সময় বিকেলের দিকে অথবা ইফতার ও সাহরির পর পেটে গ্যাস হয়। এতে একেক সময় হজমে সমস্যা, পেট ফাঁপা, পেট জ্বালাপোড়া করা, ঢেঁকুর ওঠা, পেট ব্যথা করা ইত্যাদি হয়ে থাকে। পেটে মারাত্মক অস্বস্তির সৃষ্টিও হতে পারে। এ অবস্থা যে শুধু যাদের এসিডিটি আছে তাদের হচ্ছে এমন কোনো কথা নেই। যারা নিয়মিত রোজা রাখছেন, তাদেরও এ সমস্যা হতে পারে। এ অবস্থাটা তৈরি হয় রোজায় ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত আপনি কী খাওয়া-দাওয়া করছেন তার ওপর ভিত্তি করে। রোজা থাকাকালে এসিডিটি থেকে মুক্তি পেতে কিছু কিছু নিয়ম মেনে চলার চেষ্টা করুন
ইফতার বা সাহরিতে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন। অতিরিক্ত খাবার গ্রহণে হজম প্রক্রিয়া চলাকালে স্টমাক বা পাকস্থলীর ওপরে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এ কারণে বুক জ্বালা করতে পারে এমনকি পেটে খাবার হজম করার পাচক রস কমে যায়। এতে খাবার আস্তে আস্তে হজম হয় ও বেশি সময় ধরে পাকস্থলীতে থাকে। ফলে পেটব্যথা বা পেটে অস্বস্তি ভাব সৃষ্টি হয়।
মনোযোগের সঙ্গে ধীরে ধীরে খাওয়ার অভ্যাস করুন। খাবারের প্রতিটি ছোট ছোট কণা বুঝে খাওয়া হলে হজম প্রক্রিয়ার জন্য যেমন ভালো তেমনি কম খাওয়ার অভ্যাসও গড়ে তোলা যায়। কেউ যদি মাত্র ২০ মিনিট, এভাবে আস্তে আস্তে মনোযোগের সঙ্গে খাওয়া অভ্যাস করেন, তবে তার ব্রেনে অটো কমান্ড যাবে যে, পেট ভরে গেছে।
তৈলাক্ত, অতিরিক্ত ভাজা ও অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার পরিহার করুন। বিপাক প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে দেরিতে ফ্যাট বা চর্বিজাত খাবার হজম হয়ে থাকে। দীর্ঘক্ষণ অভুক্ত থাকার পর পাকস্থলীতে বেশি সময় খাবার থাকলেই গ্যাস তৈরি করে ও পেটের অস্বস্তিভাব সৃষ্টিতে একধাপ এগিয়ে যায়। সাধারণত ইফতারিতে দোকান বা বাসাবাড়িতে ভাজাপোড়াই বেশি তৈরি হয়। নিজে সতর্ক হোন, ভাজাপোড়া বা তৈলাক্ত খাবার গ্রহণে না বলুন। কোনো দাওয়াতে খেতে গিয়ে চেষ্টা করুন বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ উপেক্ষা করে নিজের খাবার নিজে বেছে নেওয়ার।
রোজা রাখা অবস্থায় কোনো ধরনের ব্যায়াম না করাই ভালো। তবে এসিডিটি থেকে মুক্তি পেতে ইফতার ও সাহরির পর কিছুক্ষণ হাঁটাচলা অথবা ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজকে প্রাধান্য দিন। মনে রাখবেন, একেবারে খাওয়ার পরপর হাঁটাচলা না করে স্বাভাবিক কাজকর্ম করার পর ১০-১৫ মিনিট পর হাঁটা ভালো।
এছাড়াও কিছু কিছু খাবার এসিডিটি প্রতিহত করতে সাহায্য করে। যেমন ইফতারির শুরুতে ঠান্ডা পানিতে ইফতার শুরু না করে রুম তাপমাত্রায় আধা গ্লাস পানিতে এক চা চামচের চার ভাগের এক ভাগ বেকিং সোডা গুলে খেয়ে নিন। এরপর স্বাভাবিক খাবার যেমন খেজুর বা খুরমা খেয়ে শরবত খেতে পারেন। কিন্তু শরবত যেন কম চিনিযুক্ত হয় সেটা খেয়াল রাখতে হবে। যাদের এসিডিটি আগে থেকেই আছে তাদের ইফতারির আইটেমে ভিটামিন ‘বি’যুক্ত খাবারকে প্রাধান্য দিতে হবে। পাতলা খিচুড়ি, ব্রোথ, চাল বা সাবুদানা মেশানো স্যুপ বেশি খাওয়ার চেষ্টা করুন। পাশাপাশি টক দইয়ের লাচ্ছি, পুদিনা পাতাও রাখুন।
ইমেল : : info@dietcounselingcentre.com