চলচ্চিত্র একটি সংস্কৃতিকে ধারণ করে। পুরোনো দিনের সমাজ ব্যবস্থা বা জীবনমান কেমন ছিল তা জানার জন্য চলচ্চিত্র দেখার বিকল্প নেই। পুরোনো দিনের সেই চলচ্চিত্রই যদি খুঁজে না পাওয়া যায় তাহলে পুরোনো দিনের সংস্কৃতিকেও খুঁজে পাওয়া যাবে না। ফলে সংস্কৃতির স্বার্থেই চলচ্চিত্র সংরক্ষণ করা জরুরি। সেই লক্ষ্যেই ১৯৭৮ সালের ১৭ মে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ। নানা চড়াই উৎরাই পার করে ফিল্ম আর্কাইভ অতিক্রম করল ৪১ বছর। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে ফিল্ম আর্কাইভ নিয়ে বিশেষ আয়োজন।
১৯৭৮ সালের ১৭ মে একেএম আব্দুর রউফ-এর নেতৃত্বে ধানমন্ডির শংকরের একটি ভাড়া বাড়িতে কার্যক্রম শুরু হয় ফিল্ম আর্কাইভের। কিন্তু স্থান স্বল্পতার কারণে সেখানে বেশি দিন কার্যক্রম চালানো সম্ভব হয়নি। এরপর ১৯৮৫ সালে আর্কাইভ স্থানান্তরিত হয় গণভবনে। এখানের ৩ নম্বর ব্লকে দুটি ফ্লোর নিয়ে কার্যক্রম চালায় ফিল্ম আর্কাইভ। কিন্তু এখানেও স্থায়ীভাবে থাকতে পারেনি এটি। ১৯৯৮ সালে আবার স্থান পরিবর্তন করে চলে যায় কলেজগেটের একটি ভাড়া বাড়িতে। এখানেও দুটি ফ্লোর বরাদ্দ পায় আর্কাইভ। ২০০৮ সালে তৃতীয়বারের মতো ফিল্ম আর্কাইভ স্থানান্তরিত হয় শাহবাগের বেতার ভবনে। নতুন ভবন নির্মাণের পূর্ব পর্যন্ত বেতার ভবনেরই একটি ফ্লোরে আর্কাইভের কার্যক্রম চলে। অবশেষে ২০১৭ সালের জুলাই মাসে নিজস্ব ভবনে স্থানান্তরিত হয় আর্কাইভ। এখন আগারগাঁওয়ে ১.১২ একর জমির ওপর নির্মিত সাততলা বিশিষ্ট এ ভবনটিতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে নতুন করে পথ চলছে আর্কাইভ।
যা আছে আগারগাঁওয়ের নতুন ভবনে?
২০১৭ সালের জুন মাসে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ পুরোপুরি স্থানান্তরিত হয়ে আগারগাঁও চলে আসে। সাততলা বিশিষ্ট এ ভবনটিতে রয়েছে প্রশাসনিক কার্যক্রম, রয়েছে ফিল্ম সংরক্ষণের জন্য ভল্ট, ৫০০ সিটের অডিটোরিয়াম, ৩০০ সিটের সিনেমা হল, ১২০ আসন বিশিষ্ট সেমিনার হল। রয়েছে দু’তলা বিশিষ্ট লাইব্রেরি, ডিজিটাল ল্যাব, কারিগরি বিভাগসহ নানা কিছু।
যেভাবে চলচ্চিত্র সংরক্ষণ করা হয়...
আর্কাইভের সংগ্রাহকেরা প্রযোজক পরিচালক ও সিনেমা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিকট থেকে বিনা মূল্যে চলচ্চিত্র সংগ্রহ করে তা আর্কাইভে জমা দেন। অনেক সময় বাজার থেকেও সিডি ভিসিডি কিনে তা সংরক্ষণ করা হয়। কমপক্ষে তিনটি ফরম্যাটে চলচ্চিত্র সংরক্ষণ করা হয়। প্রত্যেকটি চলচ্চিত্রই প্রথমে চেক করা হয় ছবিটির রিল/সিডি ঠিক আছে কিনা। এর জন্য রয়েছে চেকিং মেশিন। চেকিং করার পরে তা নির্দিষ্ট তাপমাত্রার ভল্টে সংরক্ষণ করা হয়। আর্কাইভের রয়েছে মোট ৬টি ভল্ট। তাপমাত্রা অনুসারেই এই ভল্টগুলো নির্মিত। ছবির ধরন ও সিডি বা রিলের অবস্থা বিবেচনায় এনে তা নির্দিষ্ট তাপমাত্রার ভল্টে রাখা হয়।
সিডি, ডিভিডি, বেটাক্যাম, ডিভিক্যাম , ভিএইচএস, সিনেমার পোস্টার ও ফটোসেট রাখা হয় +১২ ডি. সে.সে তাপমাত্রার ভল্টে। +৮ ও +৪ ডি. সে. সে তাপমাত্রার দুটি ভল্টে সংরক্ষণ করা হয় সাদাকালো ছবি। রঙিন ছবি, প্রিন্ট, নেগেটিভ ও ডিউপ নেগেটিভ সংরক্ষণ করা হয় ০০ ডি. সে, -৪ ডি. সে, ও -৮ ডি.সে তাপমাত্রার তিনটি ভল্টে। আর্কাইভের মহাপরিচালক জানান, এই ভল্টগুলোতে ছবি সংরক্ষণ করলে ৫০০ বছর পর্যন্ত তা সচল রাখা সম্ভব হবে।