গান্ধী হত্যাকারীর পক্ষে সাফাই গেয়ে ‘লোকদেখানো’ শাস্তি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানালেন, মহাত্মা গান্ধী হত্যাকারী নাথুরাম গডসের পক্ষে সাফাই গাওয়ার জন্য সাধ্বী প্রজ্ঞা ক্ষমা চাইলেও তিনি মন থেকে ক্ষমা করতে পারবেন না।

অন্যদিকে ভোপালে দলীয় প্রার্থীর মন্তব্যকে বিজেপি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে উল্লেখ করে সভাপতি অমিত শাহ জানান, দলের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটিকে বলা হয়েছে বিষয়টি খতিয়ে দেখে দশ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে।

অথচ দশ দিনের মধ্যেই শেষ পর্যায়ের ভোট হয়ে যাবে, ২৩ মে ফল প্রকাশ হবে। জানা যাবে, নতুন সরকারে কারা থাকছে। এর ফলে নজর থেকে সরে যাবে সব বিতর্ক। তাই একে ‘লোকদেখানো ব্যবস্থা’ বলছে কংগ্রেস।

তাদের মতে, এই হাস্যকর শাস্তি ঘোষণা প্রত্যাশিতই ছিল। কারণ আরএসএস-বিজেপি তো নাথুরামের উত্তরাধিকারকেই বয়ে নিয়ে চলেছে। ভোটের মুখে গান্ধীপ্রীতি দেখানোর বাধ্যবাধকতা থাকলেও তাদের হৃদয়ে যে গডসের বাস। তা সাধ্বী প্রজ্ঞার মন্তব্যের পর বিজেপির একের পর এক পদাধিকারীর সমর্থন-টুইটই প্রমাণ।

মন্ত্রী অনন্তকুমার হেগড়ে সাধ্বীকে সমর্থন করে লেখেন, “৭০ বছর পরে অবশেষে দেশবাসী গডসের সঠিক মূল্যায়ন করছেন। এ জন্য আমি আনন্দিত।”

রাজীব গান্ধী ও কসাবের সঙ্গে গডসের তুলনা করে টুইটে সাংসদ নলিনকুমার কাটিল বলেন, “গডসে একটা মানুষকে মেরেছিলেন, জঙ্গি কসাব ৭২ জনকে হত্যা করেছে আর রাজীব গান্ধী ১৭ হাজার খুন করেছেন। আপনারাই ঠিক করুন কে বেশি নিষ্ঠুর?”

দলের প্রচার শাখার নেতা অনিল সৌমিত্র লেখেন, “গান্ধী আসলে পাকিস্তানের জনক। তার মতো লাখ লাখ লোক দেশে জন্মায়।”

এরপরে কংগ্রেসের পাশাপাশি অন্য বিরোধী দলগুলো, বিভিন্ন অংশের মানুষ সমালোচনায় নামে।

মাহিন্দ্রা গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান আনন্দ মাহিন্দ্রা টুইটে লেখেন, “গোটা বিশ্ব যখন মূল্যবোধের সংকটে, আমাদের দেশ মহাত্মা গান্ধীর দেশ হিসেবে আলোকবর্তিকা নিয়ে এগিয়ে চলেছে। বিশ্বের কোটি কোটি মানুষকে আজও অনুপ্রাণিত করেন বাপু। কিছু বিষয় বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখতে জানতে হয়, না হলে আমরা তালেবান হয়ে উঠব।”

দেশজুড়ে এমন সমালোচনায় মুখে এক মন্ত্রী-সহ তিন পদাধিকারীর বিরুদ্ধে ‘শাস্তি’ ঘোষণা করতে হয় অমিত শাহকে। সেই শাস্তির নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

মন্ত্রী হেগড়ে এবং সাংসদ কাটিলকে ১০ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। আর দলের চাপে মন্তব্যের দেড় ঘণ্টার মধ্যে সাধ্বীকে নিয়মরক্ষার দুঃখপ্রকাশ করতে হওয়ায় মন্ত্রী ও সাংসদ টুইট সরিয়ে নেন।

হেগড়ে যুক্তি দেন, তার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল। কিন্তু অনিল সৌমিত্র টুইট না-সরানোয় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেন অমিত শাহ।

এদিকে বলা হচ্ছে, প্রজ্ঞার মন্তব্যের জেরে ভোটের বাজারে ফিরল কংগ্রেস। ইতিমধ্যে নিজেদের টুইটার অ্যাকাউন্টের প্রোফাইল পিকচার বদল করেছে কংগ্রেস। মহাত্মা গান্ধীর ছবি সেখানে শোভা পাচ্ছে।