বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে শোচনীয় পরিণতির দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি।
শনিবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এ অভিযোগ করেন।
তারা বলেন, খালেদা জিয়ার কারাবাস দীর্ঘায়িত করার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডনে দেওয়া তার বক্তব্য বাস্তবায়ন করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন নেতারা।
আন্দোলন কর্মসূচিতে যাচ্ছেন না কেন বিএনপি, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। এই দলের পক্ষে আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই। আমরা কোনোভাবে আইনি লঙ্ঘন করতে পারি না। চেষ্টা করছি, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাকে মুক্ত করতে।’
একই প্রশ্ন বারবার করলে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘আমরা খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা এবং দ্রুত মুক্তির বিষয় নিয়ে এখানে লিখিত বক্তব্য দিয়েছি। আমরা আজ এর মধ্যেই থাকতে চাই। আপনাদের প্রশ্নের জবাব দিতে গেলে আজকের বিষয়টি ডাইভার্ট হয়ে যাবে।’
অপর এক প্রশ্নের জবাবে মওদুদ আহমদ বলেন, সরকারের একটি অংশ ষড়যন্ত্র করছে। তাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জে নেওয়া হচ্ছে।
এ সময় খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, প্যারোলের কোনো চিন্তা-ভাবনা নেই।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘আদালত স্থানান্তর করে খালেদা জিয়ার বিচার কাজ পরিচালনা করে ঠিক হচ্ছে কি না, সেটা নিয়ে আমাদের আইনজীবীরা কাজ করছেন। তারাই খতিয়ে দেখবেন বিষয়টির লজিক্যাল দিক আছে কি না।’
এর আগে লিখিত বক্তব্যে জমির উদ্দিন সরকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে বলেছিলেন, খালেদা জিয়া কোনো দিন কারাগার থেকে বের হবেন না। তিনি দেশে এসে সেটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বাস্তবায়ন করছেন। ইতিমধ্যে কেরানীগঞ্জে আদালত স্থানান্তরের এসআরও জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশ কীসের জন্য এবং কার জন্য করা হচ্ছে তা জনগণের বুঝতে বাকি নেই।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে এক শোচনীয় পরিণতির দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বন্দী হওয়ার অনেক আগে থেকে নানা রোগব্যাধিতে আক্রান্ত ছিলেন। একজন বর্ষীয়ান নারীর এই নির্জন মানবেতর কারাবাস স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য কতটা ক্ষতিকারক হতে পারে তা খালেদা জিয়ার বর্তমান গুরুতর শারীরিক অসুস্থতায় উপলব্ধি করা যায়।
‘কারাগারে অবস্থানকালীন তার কক্ষের বাথরুমে তিনি পড়ে গিয়ে প্রচণ্ড ব্যথা পেয়েছেন। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে কারাবন্দী খালেদা জিয়া’।
তিনি বলেন, কারাগারে থাকার সময় সেখানকার পরিবেশে ভয়ংকর মাত্রার ভিটামিন ‘ডি’ ও ক্যালসিয়ামের শূন্যতা দেখা দিয়েছে, যা তার হাড়ের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
‘এমনিতেই অনেক আগে থেকেই তিনি বাম কাঁধ ও হাতের ব্যথায় ভুগতেন। এখন সেই ব্যথা ডান কাঁধ ও হাতেও সম্প্রসারিত হয়ে মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। তিনি এখন দুই হাতেই নিদারুণ যন্ত্রণা ভোগ করছেন’।
জমির উদ্দিন সরকার বলেন, সর্বশেষ খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় জানা গেছে, ইনস্যুলিন ব্যবহারের পরও ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণ তো হচ্ছেই না, বরং তা বিপজ্জনক মাত্রায় অবস্থান করছে। ইতিমধ্যে তার মুখে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে, এই ক্ষতের জন্য মুখে প্রচণ্ড ব্যথার সৃষ্টি হয়েছে যার কারণে তিনি স্বাভাবিক খাওয়া-দাওয়া করতে পারছেন না, কোনোরকমে জাউ খেয়ে জীবন ধারণ করছেন।
‘অথচ সরকার প্রধান থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী ও নেতারা বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করে যাচ্ছেন, যা শুধু অমানবিকই নয়, নিষ্ঠুর মনুষ্যত্বহীন মনেরও বহিঃপ্রকাশ’।