পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রাণীটি আসলে কত বড়?

সৃষ্টি নিয়ে মানুষের এমন কৌতূহলটা বলতে গেলে চিরায়ত। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রাণীটি কত বড় আর সবচেয়ে ছোট প্রাণীটিই বা কত ছোট।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার বিজ্ঞানীদের দাবি অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাণী নিয়ে একটি ফটো ফিচার করেছে।

কয়েক বছর আগে ইতালির একটি লেকের ধারে চাষাবাদের জন্য মাটি খোঁড়ার সময় প্রথমে বড় একটি মেরুদণ্ডের হাড় চোখে পড়ে এক কৃষকের। তারপর ইতালির বিজ্ঞানী জিওভানি বিয়ানুসি তার দলের সদস্যদের নিয়ে ওই জায়গায় হাজির হন।

পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, জীবাশ্মের কঙ্কালটি অতিকায় নীল তিমির। বিজ্ঞানীদের অনুমান, এই প্রাণী দৈর্ঘ্যে ৮৫ ফুট ছিল। ওজন ছিল ১৩০ থেকে ১৫০ টন ছিল। অর্থাৎ ১ লাখ ১৭ হাজার কিলোগ্রাম থেকে ১ লাখ ৩৬ হাজার কিলোগ্রাম ওজন।

যেখানে একটি আফ্রিকান হাতির ওজন ৬ হাজার ৩৫০ কিলোগ্রামের মতো এবং এশিয়ান হাতির ওজন ৫ হাজার ৪০০ কিলোগ্রামের মতো। অর্থাৎ যে নীল তিমির জীবাশ্ম উদ্ধার হয়েছে সেটা ২১টা আফ্রিকান হাতি এবং ২৫টা এশিয়ান হাতির সমান!

আর দৈর্ঘ্যে? তিনটি লরির সমান প্রায়। এখন পর্যন্ত যতগুলো জীবাশ্মের সন্ধান মিলেছে তার মধ্যে এটাই সবচেয়ে বড় বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। এমনকি বর্তমানে যে সমস্ত নীল তিমি দেখা যায়, তারাও এর কাছে ‘শিশু’।

জানা গেছে, তিমিটা এতটাই বড় যে তার সম্পূর্ণ কঙ্কাল খুঁড়ে বের করতে প্রত্নতত্ত্ববিদদের দুই বছর সময় লেগে গিয়েছে। পাশের লেকের পানির স্তরও কমিয়ে আনতে হয়েছিল বিজ্ঞানীদের। তা না হলে তিমির কঙ্কাল খুঁড়ে বের করা সম্ভব হতো না।

বিশালাকার এই নীল তিমির হাড় পরীক্ষা করে জানা গেছে, এটা প্রায় ১০ লাখ ৫০ হাজার বছরের পুরোনো। আর এখানেই বিজ্ঞানীদের মনে বিস্ময় জেগেছে। এত বছর আগেও সমুদ্রে এরকম একটা বিশালাকার প্রাণী ঘুরে বেড়াতো!

বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, এর অর্থ ১০ লাখ ৫০ হাজার বছরের আরও অনেক আগে নীল তিমির আবির্ভাব হয়েছিল। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, কোনো প্রাণীর আকার রাতারাতি এতটা বিশাল হওয়া সম্ভব নয়।

কীভাবে ওই এলাকায় নীল তিমির জীবাশ্ম এলো- এমন প্রশ্নের জবাবে বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, ‘আইস এজ তথা বরফ যুগের’ কারণে হতে পারে। আজ থেকে প্রায় ২০ লাখ ৬০ হাজার বছর পিছিয়ে গেলে এই আইস এজের শুরু। চলেছে আজ থেকে ১১ হাজার ৭০০ বছর আগে পর্যন্ত।

এ সময় বেশির ভাগ জলরাশি বরফে পরিণত হয়ে গিয়েছিল। ফলে সমুদ্রের জলস্তর কমে যায়। সে সময় যে তিমিগুলো মারা গিয়েছিল। বিজ্ঞানীদের অনুমান, তারই একটার জীবাশ্ম উদ্ধার হয় ইতালির ওই লেকের পাশে মাটির তলা থেকে।