রাজধানীর বাড়িধারায় যমুনা ব্যাংকের বুথের প্রহরী শামীম খুনের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় হত্যাকারী কফিলকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।
১৫ মে কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ি থানার পূর্বধনিরাম নিজ গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার হয় কফিল।
হত্যার বিষয় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয় সে। ২১ জানুয়ারি ভোরে বারিধারার যমুনা ব্যাংকের এটিএম বুথে খুন হয় শামীম।
শামীম এলিট সিকিউরিটি ফোর্স লিমিটেডে চাকরি করতেন। হত্যার ঘটনায় শামীমের বাবা বাদী হয়ে ভাটারা থানায় একটি হত্যা মামলা করে।
রোববার পিবিআই ঢাকা মেট্টোর (দক্ষিণ) পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শামীম হত্যা মামলাটি পিবিআইয়ের তফসিলভুক্ত হওয়ায় ৩ এপ্রিল মামলাটি এসআই পুলক সরকারের ওপর অর্পণ করা হয়।
তিনি জানান, মামলাটি তদন্ত করা অবস্থায় এসআই পুলক উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, বিশ্বস্ত সোর্স নিয়োগ ও ঘটনাস্থলের এটিএম বুথের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে আসামি মো. কফিলকে বুধবার কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানার পূর্বধনিরাম গ্রামের তাহার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে।
‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শামীমকে হত্যার দায় স্বীকার করে এবং হত্যায় ব্যবহৃত আলামত নিজ বাড়ি ও ভাটারা থানাধীন নয়ানগর মুন্সিবাড়ি কফিলের মেস থেকে জব্দ করা হয়েছে। শুক্রবার কফিলকে আদালতে সোপর্দ করা হলে কফিল শামীমকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে’।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই পুলক সরকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিয়ে ভেঙে দেওয়া, ব্যক্তিগত কথা জোন কমান্ডার শাহীনকে বলে দেওয়া এবং ধার দেওয়া টাকা ফেরত না দেওয়ায় শামীমের ওপর ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে হত্যার পরিকল্পনা করে কফিল’।
‘ঘটনার ২ থেকে ৩ দিন আগে আসামি কফিল ভাটারা থানাধীন নতুন বাজার থেকে ভিকটিম কফিলকে হত্যার করার জন্য হাতুড়ি, সাদা প্যান্ট, সোয়েটার (জ্যাকেট) এবং মুখোশ কেনে’।
তিনি আরো বলেন, আসামি কফিল ও শামীম সম্পর্কে প্রতিবেশী। শামীম এলিট ফোর্সে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ২০১৮ সালে কফিলকে ঢাকা নিয়ে আসে। কফিল ঢাকা এসে থাকার জন্য সুবাস্তু টাওয়ারের সামনে শামীমের বাসায় উঠে। শামীমই কফিলকে এলিট ফোর্সে চাকরি নিয়ে দেয়।
‘পরে সে এলিট ফোর্সের জোন কমান্ডার শাহিনের মেসে ওঠে। কফিল ওই মেসে কিছুদিন অতিবাহিত করার পর সাবিনা নামে এক নারীর সঙ্গে পরিচয় হয়। কিছুদিন পর সাবিনা আসামি কফিলকে তার ছোট বোন শাহানাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়।
‘কফিল সাবিনার প্রস্তাবে রাজি হয়। এর মধ্যে শামীম সাবিনা এবং সাবিনার স্বামী আব্দুল মালেককে জানায় যে, আসামি কফিলের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ, বাড়িঘর ভালো না, স্বভাবচরিত্র ভালো না, কফিলের সঙ্গে বিয়ে দিলে সাবিনার বোন সুখী হবে না’।
‘এর ফলে সাবিনা তার বোন শাহানার সঙ্গে আসামি মো. কফিলের বিয়েটা ভেঙে দেয়। এ জন্য কফিল শামীমের ওপর ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ হয়। এ ছাড়া কফিল শামীমকে ২ হাজার টাকা ধার হিসাবে দিয়েছিল। ওই টাকা শামীমের কাছে চাইলে সে কফিলকে টাকা পরিশোধ না করে ঘুরাতে থাকে’।
‘তা ছাড়া কফিলের প্রেমের কথা তাদের জোন কমান্ডর শাহীনকে জানিয়ে দেয়। এর ফলে জোন কমান্ডার শাহীন কফিলকে ভালোভাবে চলার জন্য বিভিন্ন সময় বকাবকি করত’।
‘এসব ক্ষোভ থেকেই শামীমকে পরিকল্পিত ভাবে খুন করে কফিল’।