র্যাঙ্কিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম না থাকায় হতাশ ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, একটি জাতিকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য সে জাতির শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়াই যথেষ্ঠ।
রোববার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মঈন খান বলেন, আজকে অশিক্ষা, কুশিক্ষা ও নকল দিয়ে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে সরকার দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে। আর এ কারণে এশিয়ার ৪১৭টি বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিংয়ে স্থান করে নিলেও সেখানে নেই ঢাবি।
মঈন খান বলেন, একটি পুরনো কথা আছে, ‘শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড।’ এ কথাটি আজও সত্য। বলা বাহুল্য, অনেকে মনে করেন, ইউরোপ-আমেরিকা-চীন বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তি হওয়ার পেছনে আছে তাদের সম্পদ ও সমরাস্ত্র। কথাটি সঠিক নয়। বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান আমেরিকা, ইউরোপ ও চীনে। কাজেই একটি জাতির উন্নতির সোপান যে একমাত্র শিক্ষা, সেকথা অস্বীকার করার উপায় নেই।
বিএনপির এই নেতা বলেন, এক সময়ে ঢাবিকে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড হিসেবে বিবেচনা করা হতো। আজকে সে অবস্থায় নেই কারণ ঢাবি’র অনেক ডিপার্টমেন্টেই কোর্স কারিকুলাম বা সিলেবাসসমূহ উন্নত বিশ্বের নামি-দামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে তাল মিলিয়ে হালনাগাদ করা হয় না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে উন্নত বিশ্বের দেশগুলো থেকে ছাপা হওয়া নামি প্রকাশকের পাঠ্যবইয়ের বদলে অখ্যাত ভারতীয় বা অনুন্নত বিভিন্ন দেশের প্রকাশকের পাঠ্যবইগুলো বেছে নেওয়া হয় ক্লাসরুমে পাঠদানের জন্য। দূর্ভাগ্যজনকভাবে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব আজ চরম আকার ধারণ করেছে।
দ্রুতগতি সম্পন্ন ইন্টারনেটসহ সমৃদ্ধ লাইব্রেরী বা গ্রন্থাগার বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান পদ্ধতির সাথে সরাসরি জড়িত উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্ধারিত পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি হরেক রকম রেফারেন্স বই এবং জার্নালের সম্ভার থাকতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি বা গ্রন্থাগারগুলোতে। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিটি এখন পুরনো বইয়ের একটি প্রদর্শনী কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। যেখানে জ্ঞানান্বেষণে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা কদাচিৎ পা ফেলে থাকে।
ঢাবি’র সাবেক এই শিক্ষক বলেন, ঢাবি’র লাইব্রেরিতে এমন সব দুস্প্রাপ্য বই ও পান্ডুলিপি’র সংগ্রহ রয়েছে যা পৃথিবীর অনেক খ্যাতনামা লাইব্রেরিতেও নেই। আজ সেগুলোর আদৌ কোনো ব্যবহার আছে কিনা সন্দেহ। সুতরাং বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিচে নেমে যাওয়ায় অবাক হবার কী আছে? স্কুলের বাচ্চাদের যেভাবে পড়ানো হয়ে থাকে সেরকমই একমূখী লেকচারভিত্তিক পদ্ধতিই অনুসরণ করা হয় ঢাবিতে। কিন্তু উন্নত বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একমুখী লেকচার দেওয়া ছাড়াও ক্লাসরুমে ইন্টারএকটিভ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। গ্রুপ বা ইনডিভিজুয়াল এসাইনমেন্ট দেওয়া হয়, সারপ্রাইজ কুইজ বা টেস্ট নেওয়া হয়। গ্রুপ বা ইনডিভিজুয়াল প্রেজেন্টেশন নেওয়া হয়।
মাল্টিমিডিয়া সরঞ্জামের সহায়তা নিয়ে অডিও বা ভিডিও ক্লিপিংস দেখানো হয়, শিক্ষকের নেতৃত্বে বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক সেক্টরগুলোতে ছাত্র-ছাত্রীদের ভিজিটে নিয়ে যাওয়া হয় এবং বিশেষ করে দেশ বিদেশের নামি দামি অধ্যাপক ও প্রাসঙ্গিক সেক্টরের সফল পেশাজীবিদেরকে অতিথি শিক্ষক হিসেবে আনা হয়। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এটা করা হয় না।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিশ্বমানের গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে এমন কোন উল্লেখযোগ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে জ্ঞানভিত্তিক সম্পর্ক স্থাপনের উদ্যোগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পরিলক্ষিত হচ্ছে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ২৮৩টি এক্সচেঞ্জ চুক্তি রয়েছে দেশ বিদেশের নানা বিশ্ববিদ্যালয় বা সংস্থার সাথে। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে উঁচুমানের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় আছে কিনা, সে ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেওয়া প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ওবায়দুল হক, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, মীর সরাফত আলী সপু প্রমুখ।